শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর: বাণিজ্য যুদ্ধে দুই মাসের বিরতি
ছবিঃ সংগৃহীত
পূর্বঘোষিত শুল্ক স্থগিতাদেশের মেয়াদ দুই মাস বেড়েছে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক এবং টানা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে বিরল এক সফর শুরু করেছেন ঠিক এমন সময়ে, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিশ্ব রাজনীতি ও তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক চরম উত্তেজনায়। সফর শুরু হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র দুই পরাশক্তির মধ্যে চলা বাণিজ্য যুদ্ধে সাময়িক বিরতি ঘোষণা করে।
দুই পক্ষ বাণিজ্য উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং নতুন করে কোনো বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার ব্যাপারে একমত হয়েছে—সংবাদমাধ্যমকে এ কথা নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল আগের বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ; সাম্প্রতিক সমঝোতার মাধ্যমে সেটি আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বেসেন্ট ইঙ্গিত দেন, এই বিরতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পরিণত করা যায় কি না, সে বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বিস্তারিত আলোচনা করবেন আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এবং ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার বৈঠকে।
সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় চীনা ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে বৈঠক হওয়ার পরই। শুধু বাণিজ্য চুক্তির সম্প্রসারণ নয়, আর্থিক সেবা খাত এবং কৃষিপণ্য ক্রয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও নতুন সমঝোতার আভাস পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে তিন দিনের এ সফরে শি জিনপিংকে দেওয়া উষ্ণ সংবর্ধনা। মার্কিন মাটিতে কোনো চীনা প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক সফর এক দশকেরও বেশি সময় পর এটিই প্রথম। অভ্যর্থনা রীতি অনুযায়ী হোয়াইট হাউসে হওয়ার কথা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত হয়ে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন শি জিনপিংকে। তাকে স্বাগত জানাতে ছিল একশ ফুট লম্বা লাল গালিচার দুই পাশে সামরিক সম্মান গার্ড, বিমানবাহিনীর বিশেষ মহড়া এবং ২১ বার তোপধ্বনি। কূটনীতিকরা মনে করেন, সমঝোতার ভিত মজবুত করার জন্যই বিশেষ এই প্রটোকলের আয়োজন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য মনে করছেন, বাহ্যিক এই সৌহার্দ্যের অন্তরালে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো প্রকট। বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় এক বৈঠকেও হয়েছিল; তখন বিরল খনিজ সরবরাহ এবং উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশ রপ্তানিতে শিথিলতা আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। বাণিজ্য ছাড়াও ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের অবস্থান পরস্পরবিরোধী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। এসব সত্ত্বেও চীনা প্রেসিডেন্ট সফরে পৌঁছে আহ্বান জানান, বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে দুই দেশ যেন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে কাজ করে।