প্রবাসীদের সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেসব সমস্যার মুখে পড়ছেন, সেগুলোর সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’
সিলেট সার্কিট হাউসে বুধবার সরকারি দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
বিভিন্ন দেশে কর্মীদের সমস্যা, যার মধ্যে ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিলও রয়েছে—এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক সংঘাতের প্রভাব আছে এসব পরিস্থিতির নেপথ্যে। কূটনৈতিক যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের খোঁজখবর রাখা, হাসপাতালে যোগাযোগ করা, নিহতদের মরদেহ দেশে নিয়ে আসা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কাজ করে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলো।
তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও আলোচনা চলছে। গণমাধ্যমকর্মী এবং এ বিষয়ে গবেষণা ও আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে একটি গোলটেবিল বৈঠক হবে, যার উদ্দেশ্য প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের করণীয় সেখানে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। তথ্য যাচাই না করে কোনো বক্তব্য বা প্রচারণা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি।
সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার কাজ করছে মাদক, চোরাচালানসহ দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম বন্ধ করতে। জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা হবে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে অতীত ও বর্তমানের পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি নিশ্চিত করা হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তাও।
মন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যে নানা কাজ শুরু হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে। তবে বড় যেকোনো প্রকল্পের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও অর্থ বরাদ্দসহ নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এসব উন্নয়নকাজ দৃশ্যমান হবে পর্যায়ক্রমে। এ জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে ডিসেম্বরের পর।
আসন্ন দুর্গাপূজা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতের মতোই সিলেটের তিনটি উপজেলাসহ গোটা দেশে দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রীতি বজায় রেখে পূজা উদ্যাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে জনগণের সহযোগিতা নিয়ে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুমেরী জামান, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী যাবের সাদেকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারাও ছিলেন।