ছবিঃ সংগৃহীত
ক্যারিয়ারে ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা এবং জাতীয় দলকে আরও সাফল্য উপহার দেওয়া—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই পথচলা অব্যাহত রাখতে চান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার চিন্তা করেছিলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা, তবে শেষ পর্যন্ত সে ভাবনা থেকে তিনি সরে এসেছেন।
পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুস আসন্ন নেশনস লিগের ২৫ সদস্যের দলে জায়গা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে। পর্তুগালের এবারের নেশনস লিগ অভিযান শুরু হবে বৃহস্পতিবার, লিসবনে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে।
বিশ্বকাপ শেষে অবসর নেওয়ার চিন্তা করেছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, ভেবেছিলাম। আমি সব সময়ই নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান নিয়ে ভাবি। আমি চিন্তাশীল মানুষ, তাই ভাবতেই হয়।’
জাতীয় দলের কোচ এবং ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে আলোচনা হওয়ার পর অবশ্য তিনি মত পরিবর্তন করেন। রোনালদো বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করার সামর্থ্য আমার আছে। শুধু গোল করেই নয়, মাঠের বাইরেও দলকে সাহায্য করতে পারি।’
১০০০ গোলই এখন ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় রোনালদোর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। ওই মাইলফলকে পৌঁছাতে তার বর্তমানে প্রয়োজন আর ২১ গোল।
দলের সাফল্য আর ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে অবশ্য তিনি পৃথকভাবে দেখছেন না। তার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হলো পর্তুগালকে তৃতীয়বারের মতো নেশনস লিগের শিরোপা জেতানো। রোনালদোর ভাষায়, ‘দুটো লক্ষ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১,০০০ গোল, হ্যাঁ। পাশাপাশি জাতীয় দলও। নেশনস লিগ জেতা… প্রতিযোগিতা বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। এটা নতুন একটি অধ্যায়।’
ফাবিও সিলভা, রেনাতো ভেইগা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও নেভেস ও ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওয়ের মতো একদল তরুণ প্রতিভা এখন পর্তুগাল দলে আছেন। রোনালদো জানান, জাতীয় দলে তার থেকে যাওয়ার অন্যতম কারণ নতুন প্রজন্মের এসব ফুটবলারের পাশে থাকাও।
তার ভাষায়, ‘এটা নতুন এক তরুণ প্রজন্ম। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে থাকা, গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করা।’
পর্তুগিজ অধিনায়ক কথা বলেছেন তরুণদের ওপর নিজের প্রভাব নিয়েও, ‘আমি জানি আমি কে। এখানে থাকতে আর এত সাফল্য পেতে কী করেছি, তা জানি। তরুণরা কেন ক্রিশ্চিয়ানোকে ভালোবাসে, সেটাও জানি। তারা আমাকে উদাহরণ হিসেবে দেখে। আমি সেটাই করে যাব, এমনকি অবসরের পরও… আরও ১০ বছর!’
শারীরিক অবস্থার ব্যাপারেও রোনালদো আত্মবিশ্বাসী। তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে নিয়ে খুশি। আগামীকাল খেলি বা পরের ম্যাচে বিশ্রাম নিই, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমার কাছে সবচেয়ে জরুরি হলো নিজেকে ভালো অনুভব করা।’