ঢাবিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় আলাদা সেল গঠনের দাবি এইচআরডিএসের
ছবিঃ সংগৃহীত
হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটির (এইচআরডিএস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট দাবি তুলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, হয়রানি, বৈষম্য ও নিপীড়নের অভিযোগ গ্রহণ এবং সেগুলোর প্রতিকারের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর ‘হিউম্যান রাইটস ডেস্ক/সেল’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা যাতে পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং অভিযোগ যাতে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি হয়, সংগঠনটি তাও চেয়েছে। এইচআরডিএসের ঢাবি ইউনিট বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১৪ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে। ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই স্মারকলিপি প্রদানের মধ্য দিয়েই। সে সময় উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের নেতারা।
পরিচয় গোপন রেখে অনলাইন ও অফলাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া বলা হয়েছে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তদন্তে গোপনীয়তা, নিরপেক্ষতা, দ্রুততা ও ভুক্তভোগীবান্ধব প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি চেয়েছে, ক্যাম্পাস, আবাসিক হল, পরিবহন, লাইব্রেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হোক এবং হয়রানি বা সহিংসতা ঘটলে দ্রুত প্রতিকার মিলুক। দাবির তালিকায় আছে ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স মেকানিজম’ চালুর কথাও, যাতে গুরুতর হামলা, নিপীড়ন, নিখোঁজ, বেআইনি আটক বা অন্য কোনো গুরুতর মানবাধিকার সংকট দেখা দিলে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
এইচআরডিএস আরও চেয়েছে এমন নীতিমালা ও নজরদারি ব্যবস্থা, যা লিঙ্গ, বিশেষ সক্ষমতা, আর্থিক অবস্থা, অঞ্চল, ভাষা, সামাজিক পরিচয় ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হওয়া বৈষম্য বন্ধ করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, পরিবহন, লাইব্রেরি ও আবাসিক হলে বিশেষ সক্ষমতাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশগম্য অবকাঠামো নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
দাবি জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক রেফারেল ব্যবস্থা চালুরও, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রাথমিক আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হলসংশ্লিষ্টদের মানবাধিকার, জেন্ডার সমতা, হয়রানি প্রতিরোধ, ডিজিটাল অধিকার ও সংঘাত নিরসন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
ধর্ম, জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য ও হয়রানি প্রতিরোধের দাবি স্মারকলিপিতে স্থান পেয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের আবাসন, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকার সুরক্ষার দাবি।
শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপও এইচআরডিএসের চাওয়া। আরও উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচনে সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ, ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, তার নিশ্চয়তার কথা।
এইচআরডিএসের সভাপতি মো. সৌরভ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তানজিলা হক অপরাজিতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ছাব্বিরুল ইসলামসহ অন্যরা সে সময় সেখানে ছিলেন।