
এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি: যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন আবু বকর (রা.)
ছবিঃ সংগৃহীত
মহান আল্লাহ তাআলা যখন প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নবুওয়াত দান করেন, সমগ্র আরবের পরিবেশ তখন পুরোপুরি তাওহিদ বা একত্ববাদের বিরোধী।
হজরত ঈসা (আ.)-এর পর দীর্ঘকাল পৃথিবীতে কোনো নবীর আগমন হয়নি। ফলে আসমানি শিক্ষা ও সঠিক পথ থেকে মানুষ অনেক দূরে সরে গিয়েছিল, আল্লাহকে ভুলে মেতে ছিল নানা দেব-দেবীর পূজায়। এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন ও প্রতিকূল পরিবেশেই আল্লাহ তাআলা শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব দিয়ে পাঠান।
সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী ও কঠিন এক পরিবেশে নবুওয়াতের দায়িত্ব পেয়ে প্রিয় নবী (সা.) খানিকটা শঙ্কিত ও চিন্তিত হয়ে পড়েন। ইসলামের সুমহান বাণীর দিকে কীভাবে এবং কাকে ডাকবেন—এ নিয়ে গভীর ভাবনা জাগে তাঁর মনে।
সেই সংকটময় মুহূর্তে প্রিয় নবী (সা.)-কে পরম সান্ত্বনা আর সাহস জুগিয়েছিলেন মমতাময়ী স্ত্রী আম্মাজান হজরত খাদিজা (রা.)। কোনো দ্বিমত ছাড়াই তিনিই সর্বপ্রথম রাসুল (সা.)-এর নবুওয়াতে বিশ্বাস এনে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসেন কিশোর আলী (রা.)।
পরিবারের পর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কাছের মানুষদের ইসলামের পথে ডাকার সিদ্ধান্ত নেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। বন্ধুদের মধ্যে প্রথমেই বেছে নেন নিঃস্বার্থ, পরম সুহৃদ ও আন্তরিক বন্ধু হজরত আবু বকর (রা.)-কে। আল্লাহর রাসুল (সা.) আহ্বান জানানোমাত্র বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা বা দ্বিধা-সংশয় ছাড়াই প্রথম ডাকেই ইসলাম গ্রহণ করেন আবু বকর (রা.)।
আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের এই অনন্য ঘটনা প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) এক হাদিসে ইরশাদ করেছেন—
‘আমি যার কাছেই ইসলামের আহ্বান নিয়ে গেছি, সেই ব্যক্তিই ইসলাম গ্রহণে প্রথমে কিছু না কিছু ইতস্তত করেছে। কিন্তু আবু বকর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে এক মুহূর্তও বিলম্ব করেনি।’
হজরত আবু বকর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের প্রেক্ষাপট নিয়ে ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে—নবুয়তপ্রাপ্তির কিছুদিন আগে কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি ইয়েমেনে গিয়েছিলেন। ইয়েমেন থেকে মক্কায় ফিরেই শুনতে পান, রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত লাভ করেছেন।
খবরটি শুনে সোজা নবীজির কাছে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি আপনার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করেছেন?’
জবাবে প্রিয় নবী (সা.) তাঁকে বলেন, ‘হে আবু বকর! আমি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। অতএব, তুমি এক আল্লাহ ও আমার নবুওয়াতের ওপর ইমান আনো।’
এ কথা শোনামাত্র আবু বকর (রা.) অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলে ওঠেন—
‘তাহলে আর দেরি কেন? আপনার হাতটি বাড়িয়ে দিন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসুল।’
ইতিহাসে বর্ণিত আছে, অন্তরঙ্গ বন্ধু ও পরম বিশ্বস্ত সাহাবি হজরত আবু বকর (রা.)-এর এই ইসলাম গ্রহণে আল্লাহর রাসুল (সা.) অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন। (উসদুল গাবাহ: ৩/২০৮-২০৯)
আসহাবে ফিলের ঘটনার আড়াই বছর পর জন্ম আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। মিরাজের ঘটনা সত্যায়ন করায় তিনি ‘সিদ্দিক’ উপাধি পান। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সব যুদ্ধে অংশ নেন তিনি, আর নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর নিযুক্ত হন মুসলিম উম্মাহর খলিফা। ১৩ হিজরিতে ৬৩ বছর বয়সে তাঁর ইন্তেকাল হয়।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
