
বাড়িঘরের বাইরে শিল্প-কৃষিতেও বিনিয়োগ বাড়ানোর ডাক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রবাসীদের মেধা, শ্রম আর বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন ‘সিআইপি (এনআরবি) সম্মাননা ২০২৬’ শিরোনামে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করে, সেখানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, প্রবাসীরা দেশের গর্ব, অর্থনীতিরও অন্যতম শক্তি। পরিবার-পরিজন ফেলে বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে তাঁরা যে রেমিট্যান্স পাঠান, তাতে দেশের লাখ লাখ পরিবার উপকৃত হচ্ছে, জীবনযাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে। রেমিট্যান্সেই অবশ্য প্রবাসীদের ভূমিকা থেমে নেই বলে মনে করেন মন্ত্রী। বিদেশে সফলভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে তাঁরা দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন।
দেশের শ্রম পরিস্থিতির কারণে মন্ত্রী অনুষ্ঠানে সশরীরে থাকতে পারেননি। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েই তিনি সম্মাননা পাওয়া সিআইপিসহ উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহু বছরের বন্ধুত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান ও সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়বে—এমন প্রত্যাশাও ছিল তাঁর বক্তব্যে।
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষা আর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কার্ডটি হাতে থাকলে প্রবাসীরা সহজেই সরকারি সেবা ও সহযোগিতা পাবেন।
সম্মাননা পাওয়া সিআইপিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ যেন কেবল বাড়িঘর তৈরিতে আটকে না থাকে; শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। এভাবে দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব। বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের পরিধি বাড়ানো, বিদেশে কর্মীর চাহিদা কেমন তা জানিয়ে সরকারকে সহায়তা করা এবং সমাজ উন্নয়নের কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
নিজ নিজ দেশের আইনকানুন মেনে চলতে প্রবাসীদের পরামর্শ দেন মন্ত্রী, যাতে তাঁদের কোনো কাজে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ না হয়। আয়োজন সফল করায় বাংলাদেশ সিআইপি বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আবারও আশা প্রকাশ করেন, প্রবাসীদের মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগ কাজে লাগিয়েই সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়া যাবে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক, আবুধাবিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল কিন্ধি এবং দুবাইয়ে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল রাশেদুজ্জামান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংখ্যার হিসাব
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ থেকে ২৬ অক্টোবর প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪৫ কোটি ২০ লাখ ডলার, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স ১ হাজার ১০৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার — দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২৭ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রথম আলোর ২১ জুলাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই–মে) সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৪২৮ কোটি ডলার; উৎস দেশের তালিকায় সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের পরেই ছিল দেশটি।
এক নজরে
লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী, বাংলাদেশি পণ্যের সর্বোচ্চ আমদানিকারক ও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিনিয়োগকারী—এই তিন শ্রেণিতে অনিবাসী বাংলাদেশিদের সিআইপি মর্যাদা দেয়। মর্যাদাটি এক বছরের জন্য দেওয়া হয়।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রেক্ষাপট সূত্র: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, ২৭ অক্টোবর ২০২৬; প্রথম আলো, ২১ জুলাই ২০২৬; লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন, তারিখ উল্লেখ নেই
