মাদক কারবারের অভিযোগে প্রবীণকে মারধর: জড়িতদের শনাক্তে আদালতের নির্দেশ
ছবিঃ সংগৃহীত
চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস মুজাহিদুর রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, অপরাধী ধরার নামে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একজন প্রবীণকে মারধর এবং প্রকাশ্যে হেনস্তা করার যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
আদেশটি দেওয়া হয় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন রাত ৯টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদেশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘weeklyhajigonj’ নামে একটি নিউজ পোর্টালের ফেসবুক পেজে যে ভিডিও ও ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা যায়—হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারের একটি মুদি দোকানে থাকা এক প্রবীণের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ তুলে তাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করছেন কয়েকজন তরুণ। এক তরুণের হাতে ইয়াবাসদৃশ একটি বস্তু থাকা এবং তা দেখিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে খবর দেওয়ার দৃশ্যও ভিডিওতে আছে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, ভিডিওতে থাকা কথোপকথন থেকে প্রতীয়মান হয়, প্রবীণ ব্যক্তিটি নিজাম কাজী, যিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর বলাখাল ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মকর্তাই ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।
আদালতের ভাষ্য, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি কিংবা আটক করার আইনগত ক্ষমতা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সাধারণ নাগরিকদের হাতে নেই। ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ওই প্রবীণের দোকানে কয়েকজন তরুণ অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করে থাকতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে দণ্ডবিধির ১৪৩ ও ৪৪৮ ধারার কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, আদেশে সেটিকে তদন্তের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, একইভাবে তাও তদন্তসাপেক্ষ।
অপরাধের সন্দেহে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কাউকে আটক করা বা মারধর করা আইনসম্মত নয়—জাস্টিস অব দ্য পিসের আদেশে এ কথাও বলা হয়েছে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলার জন্য এমন ঘটনা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কিশোর গ্যাং ও মব কালচারের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা। এ জন্য তাকে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ এবং সাক্ষীদের তালিকা তৈরি করতে হবে।
পাশাপাশি হাজীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল মান্নানের প্রতি আদালতের নির্দেশ, প্রবীণ ওই ব্যক্তির কাছ থেকে কথিত মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা একই সময়ের মধ্যে জানাতে হবে।