ছবিঃ সংগৃহীত
না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন জেমস স্লোয়েন—দীর্ঘ অভিনয়জীবনে যিনি পর্দায় ধরা দিয়েছেন নানা রূপে। কখনো তিনি অপরাধীর সহযোগী, কখনো বিজ্ঞানী, কখনো আবার ভিনগ্রহের বাসিন্দা; এক জীবনে চরিত্রের যেন শেষ ছিল না। ‘দ্য স্টিং’, ‘জ্যানাডু’ থেকে শুরু করে ‘স্টার ট্রেক’-এর একাধিক ধারাবাহিক—সব মিলিয়ে বৈচিত্র্যে ভরা কাজের স্মৃতি রেখে গেছেন এই অভিনেতা।
মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েনের মৃত্যু হয়েছে গত ২২ জুলাই; তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে। তাতে জানানো হয়, মৃত্যুর বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হয় এবং অভিনেতার পরিবার সপ্তাহের শেষ দিকে তা নিশ্চিত করে।
‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে জেমস স্লোয়েন নামটি এলেই মনে ভেসে ওঠে তাঁর অভিনীত একাধিক চরিত্র। ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’—এই তিন ধারাবাহিকের প্রতিটিতেই অভিনয় করেছেন তিনি। একই ধারাবাহিকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে হাজির হয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই অভিনেতা; কখনো তিনি রোমুলান অ্যাডমিরাল, কখনো ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্ফের ছেলে।
বিজ্ঞানী ড. মোরার ভূমিকায় ‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ এবং হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেলের ভূমিকায় ‘ভয়েজার’-এও পর্দায় এসেছেন তিনি। এসব চরিত্রের সুবাদেই বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে আলাদা পরিচিতি পান স্লোয়েন।
স্লোয়েনের ক্যারিয়ারের স্মরণীয় অধ্যায় শুধু ‘স্টার ট্রেক’-এ সীমাবদ্ধ নয়, এর বাইরেও আছে আরও অনেক। ১৯৭৩ সালে তিনি আলোচনায় আসেন জর্জ রয় হিলের অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এর মোটোলা চরিত্র দিয়ে। অপরাধী ডয়েল লনেগানের পক্ষে জুয়া পরিচালনা করেন—এমন এক কর্মীর ভূমিকা ছিল সেটি। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিনয় করেন ‘জ্যানাডু’তেও, যে ছবিতে অভিনয় করেছেন অলিভিয়া নিউটন-জন।
জেমস স্লোয়েনের জন্ম ইন্ডিয়ানাপোলিসে, ১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। অভিনয়কে ভালোবেসেই একটু একটু করে মঞ্চের পথে আসা তাঁর। স্নাতক সম্পন্ন করেন দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টস থেকে, এরপর তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন মার্কিন সেনাবাহিনীতে।
সেনাবাহিনী থেকে ফেরার পর তাঁর অভিনয়ের শুরু নিউইয়র্কে। জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে কাজ করেছেন, সেই সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্যের কোরিওগ্রাফারের দায়িত্বও সামলেছেন। ব্রডওয়েতে তাঁর অভিষেক ১৯৬৯ সালে, আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ানস’ নাটক দিয়ে। বড় পর্দায় পথচলা শুরু হয় তার পরের বছর, ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’-এর মাধ্যমে।
স্লোয়েন ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান ১৯৭৩ সালে। তারপর থেকে সিনেমা ও টেলিভিশন ধারাবাহিকে একটির পর একটি কাজ করে গেছেন। তাঁকে দেখা গেছে ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রান্সিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’সহ নানা প্রযোজনায়। ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’ ধারাবাহিকে নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসে ১৯৭৭ সালে।
স্লোয়েনের কাজ কেবল অভিনয়ে সীমিত ছিল না; বিজ্ঞাপনের জগতেও ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের উপস্থিতি। বিলাসবহুল গাড়ির ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে তাঁর কণ্ঠ শোনা গেছে ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর।
জেমস স্লোয়েনের ব্যক্তিজীবনের সঙ্গী ছিলেন অভিনেত্রী ডিয়ারড্রে লেনিহান; তাঁর সঙ্গেই সংসার করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী ছাড়াও তিনি রেখে গেছেন সংগীতশিল্পী ছেলে ড্যানিয়েল ও অভিনেত্রী মেয়ে সামান্থাকে।
জেমস স্লোয়েন নিজের ছাপ রেখে গেছেন অভিনয়ের নানা অঙ্গনে—মঞ্চ ও সিনেমা থেকে শুরু করে টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপনেও। নতুন কোনো চরিত্রে পর্দার এই বহুরূপী অভিনেতার দেখা আর মিলবে না।