ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পৃথিবী গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বান—আগামী প্রজন্মের জন্য গড়ে তুলতে হবে আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করি।’
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে তিনি যেসব বিষয়ে জোর দেন, সেগুলো হলো—জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।
প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায়, যা আজ স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে বসে। সভাটির উদ্যোক্তা ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ, অথচ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মোট পরিমাণে দেশটির অংশ শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম।
তাঁর সতর্কবার্তা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ার ফলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। তা ঘটলে কোটি কোটি মানুষের জীবিকার ক্ষতি হবে এবং মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। তিনি জানান, জলবায়ু অভিযোজন খাতে চলতি বছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা না পেলে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করা হচ্ছে; এর লক্ষ্য পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ। এগিয়ে চলছে পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও।
তিনি বলেন, লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে যে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করা হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে। এর পাশাপাশি সরকার সবুজ শিল্পের প্রসারে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগ। গ্রহণ করা হয়েছে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগও।
তিনি মনে করেন, এসব লক্ষ্য বাংলাদেশ একা অর্জন করতে পারবে না। এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য জরুরি পাঁচটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রথমত, বিশ্বজুড়ে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে হবে, যাতে প্যারিস চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের যে সীমা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারিত হয়েছে, তা বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু উত্তরণের এমন একটি পথ গড়ে তুলতে হবে, যা ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক।
চতুর্থত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথ ধরে।
সর্বশেষে, তিনি আহ্বান জানান ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার এবং সেই সঙ্গে তহবিলটি নিয়মিত পুনঃপূরণের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে—এমন অংশীদারত্বই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মুহূর্তে নিউইয়র্কে রয়েছেন। সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন ২৪ সেপ্টেম্বর।