ছবিঃ সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকার লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন নাইটসের বিপক্ষে, ব্লুমফন্টেইনে সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জের ম্যাচে। আর তাতেই ভেঙে গেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড, যা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টিকে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিস গেইলের নামে।
টাইটান্সের ২০ বছর বয়সী এই ব্যাটার ইনিংস উদ্বোধনে নেমে অপরাজিত থাকেন ১৮৮ রানে, খেলেন ৭৯ বল—অবিশ্বাস্য এক ইনিংস। শুক্রবারের ওই ম্যাচে প্রিটোরিয়াসের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ছিল বাউন্ডারির ছড়াছড়ি; ১৫টি চার মারার পাশাপাশি তিনি ছক্কা হাঁকান ১৩টি।
এর আগে গেইল অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসটি খেলেছিলেন ৬৬ বলে, ২০১৩ সালের আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জার্সিতে। এই সংস্করণে এত দিন শীর্ষে থাকা সেই ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি এবার প্রিটোরিয়াসের পেছনে পড়ে গেলেন। ইনিংসের প্রথম বলে চার আর পরের বলে ছক্কা দিয়ে তাঁর শুরু, তারপর থামার নাম নেননি। প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়ে তিনি ফিফটিতে পৌঁছান ২৪ বলে, সেঞ্চুরিতে ৪০ বলে এবং ১৫০ রানের মাইলফলকে ৫৮ বলে। একসময় তো ডাবল সেঞ্চুরিও হয়ে যেতে পারে বলে মনে হচ্ছিল! ১৭ ওভার শেষ হওয়ার সময় তাঁর রান ছিল ১৬৬; পরে আরও ১০ বল খেললেও তাঁকে থামতে হয় দ্বিশতকের ১২ রান আগে।
প্রিটোরিয়াস যেদিন এমন তাণ্ডব চালালেন, সেদিন টাইটান্সের বাকি ব্যাটারদের কেউই ত্রিশের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তাঁর অতিমানবীয় ইনিংসে ভর দিয়েই দলটি ৩ উইকেটে তোলে ২৬৭ রানের পাহাড়। সিএসএ টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জের ইতিহাসে দলীয় সংগ্রহ হিসেবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এত বড় লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে নাইটস গুটিয়ে যায় ১৪৩ রানেই, তখনো বাকি ছিল ১৬ বল। ফলে টাইটান্স মাঠ ছাড়ে ১২৪ রানের বিশাল ও একপেশে জয় নিয়ে।
প্রিটোরিয়াস গত মাসে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছিলেন ৯৪ ও ১০১ রানের দুটি ইনিংস, যথাক্রমে নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জাতীয় দলের ওই ফর্মই তিনি এবার নিয়ে এলেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এখন পর্যন্ত প্রোটিয়াদের জার্সি গায়ে তাঁর খেলা হয়েছে দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও ১৭ টি-টোয়েন্টি।