ছবিঃ সংগৃহীত
নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। রাজ্যের কামজং, কাংপোকপি ও উখরুল জেলার বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও গুলির লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, নাগা ও কুকি সম্প্রদায়ের লোকজনের অন্তত ১৪টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং সম্প্রতি দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তিনি সেখানে তুলে ধরেন, আর কেন্দ্রীয় সরকারও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেয়। কিন্তু বৈঠকের পরও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা থামেনি।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটে কামজং জেলার চাসাদ গ্রামে শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত গোলাগুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় নিহত হন কুকি সম্প্রদায়ের ৪২ বছর বয়সী নারী ডমখোনাই থাউথাং। তখন থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে চাসাদ থানায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হলে নতুন করে সহিংসতার শুরু। ভোর ৫টার দিকে আবার গোলাগুলি শুরু হয়, যা চলে সকাল ৭টা পর্যন্ত। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে থানার চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন কামজং জেলার ম্যাজিস্ট্রেট।
সশস্ত্র গোষ্ঠীসংশ্লিষ্ট পৃথক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে কাংপোকপি জেলাতেও। সেখানে মাকুই আশাং গ্রামে হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নাগা গ্রামরক্ষী রয়েছেন।
অন্যদিকে উখরুল জেলায় এক বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ইম্ফল-উখরুল সড়ক দিয়ে নিজের কৃষিজমিতে যাচ্ছিলেন। গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে জেলার অন্যান্য গ্রাম থেকেও।
পরপর এসব সহিংসতায় মণিপুরের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কাও বাড়ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার রাজ্যে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে সহিংসতা বন্ধ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।