এক লাখ ডলার চাওয়ার অভিযোগ: রাষ্ট্রদূত গিলফয়েলকে বরখাস্তের কথা ভাবছেন ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত
অনিয়মের অভিযোগ একের পর এক ওঠার পর গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদ থেকে বরখাস্তের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনা সম্পর্কে জানেন এমন এক ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে রবিবার এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে প্রায় চার বছর বাগদান ছিল গিলফয়েলের; অর্থাৎ তিনি প্রেসিডেন্টপুত্রের সাবেক বাগদত্তা। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি দামি উপহার নিয়েছেন এবং মার্কিন প্রশাসনের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেওয়ার বদলে অর্থ চেয়েছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাম্প সেসব প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন।
এ ঘটনায় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নাখোশ। বিশেষত অভিযোগগুলো প্রকাশ পেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর গ্রিসের রাজধানী এথেন্স সফরের সময়েই। সেই সফরে এথেন্সের অ্যাক্রোপলিসে দাঁড়িয়ে পশ্চিমা গণতন্ত্র বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছিলেন রুবিও।
ওই ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, গিলফয়েলকে বরখাস্তের প্রশ্নে খুব শিগগির ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অবশ্য অভিযোগ প্রকাশের পরও প্রকাশ্যে গিলফয়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াননি প্রেসিডেন্ট।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুক্রবার সিএনএন জানতে চাইলে ট্রাম্পের উত্তর ছিল, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে এইমাত্র শুনেছি। এটা দুঃখজনক।” সঙ্গে যোগ করেন, “আমি এ সম্পর্কে সামান্যই শুনেছি। বিস্তারিত কিছু জানি না। তবে তিনি সব সময়ই আমার সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করেছেন।”
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে সিএনএন যোগাযোগ করেছে।
এক লাখ ডলারের খুদে বার্তা
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হলো—রাষ্ট্রদূত পদে তার নিয়োগ সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে একসময়ের ট্রাম্প-সমর্থক এরিক ডিটার্সের কাছে তিনি এক লাখ ডলার চান।
ডিটার্স দাবি করেছেন, সিনেটে নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক দিন আগে গিলফয়েল তাকে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, যাতে একটি আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিল মেটাতে এক লাখ ডলার পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তখন হাতে যথেষ্ট নগদ টাকা না থাকায় শেষমেশ ডিটার্স সেই অর্থ পাঠাননি।
বিষয়টি প্রথম সামনে আনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, যাদের প্রতিবেদনে বার্তাগুলোর উল্লেখ ছিল। পত্রিকাটিকে গিলফয়েলের আইনজীবী জানিয়েছেন, বার্তাগুলোর সত্যতা নিয়ে তার মক্কেলের আপত্তি রয়েছে।
ওই ব্যক্তির ভাষ্যমতে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছেও গত সপ্তাহে গিলফয়েল দাবি করেছেন যে বার্তাগুলো তার পাঠানো নয়।
অর্থ চাওয়ার অভিযোগ কিংবা বার্তাগুলোর সত্যতা নিয়ে যে বিরোধ, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায় এমন কোনো তথ্য সিএনএনের প্রতিবেদনে নেই। তাই অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি।
বিচ্ছেদের পরও ট্রাম্প পরিবারের কাছের মানুষ
ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটলেও ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে গিলফয়েলের ঘনিষ্ঠতা অটুট ছিল। পরবর্তী সময়ে তাকে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়।
ট্রাম্প এবং তার ছেলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সিএনএনকে জানিয়েছেন, পুরো ব্যাপারটি তাদের বিব্রত করেছে। তবে এসব অভিযোগের জেরে গিলফয়েলের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটি এখনও অস্পষ্ট।
নিজের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাঙিয়ে কেউ আর্থিক ফায়দা নিলে তা তিনি পছন্দ করেন না—এ কথা ট্রাম্প আগেও একাধিকবার পরিষ্কার করে বলেছেন। গিলফয়েলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রশ্নে তার এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জনমতের আদালতে বিচারে নারাজ ভ্যান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন। গিলফয়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার কি না, সেই প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি। ভ্যান্সের কথায়, জনমতের আদালতে কারও বিচার করার চেষ্টায় যেতে চান না তিনি।
তবে কারও সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়ে অর্থ নেওয়া নিয়ে নিজের অস্বস্তি তিনি গোপন রাখেননি।
ভ্যান্সের ভাষায়, “অবশ্যই অন্য কোনও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কাউকে অর্থ নিতে দেখলে আমি তা পছন্দ করব না। বিশেষ করে সেই কর্মকর্তা যদি সরকারের উচ্চপর্যায়ের কেউ হন।”
তার আরও বক্তব্য, “সত্যটা কী, তা দেখা যাক। আর সত্যিই যদি খারাপ কিছু ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবশ্যই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।”
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কোনো তদন্ত বা পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। অভিযোগগুলো নিয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত মূল্যায়নই ঠিক করবে, তিনি গিলফয়েলকে বরখাস্ত করবেন কি না। সূত্র: সিএনএন