প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনায় জোর দিলেন খাদ্যমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান কৃষকেরা যেন কোনো রকম অসহায় অবস্থায় না পড়েন।
মন্ত্রী জানান, সামনে যত ধান সংগ্রহ করা হবে, কৃষকেরা নিজেরাই সংগ্রহ কেন্দ্রে এসে তা দিয়ে যাবেন। কাজটি কৃষকদের জন্য আরও সহজ করতে কোনো পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলার খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, ধান দেওয়ার পর টাকা পেতে কৃষকদের যেন ব্যাংক হিসাব খোলার মতো ঝামেলায় পড়তে না হয়, সে জন্য বিকাশ বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে সহজ উপায়ে অর্থ পরিশোধ করা যায় কি না, তা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। শুরুতে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালিয়ে দেখা হবে; সেখানে সফলতা এলে পরে সারা দেশেই কৃষকদের কাছ থেকে একই পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো খাদ্যের মজুদ ঠিকঠাক ধরে রাখা। মজুদে থাকতে হবে মানসম্পন্ন চাল ও গম, এবং এর পরিমাণ যেন যথেষ্ট থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে, তাই যেকোনো দুর্যোগ সামাল দেওয়ার মতো মজুদ থাকা প্রয়োজন—এ বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখার কথা বলেন তিনি।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি করা চাল আসার সময় এর মান অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে কখনো এক পার্সেন্টও কম পাওয়া গেলে সেই চাল গ্রহণ করা যাবে না, কেননা এর দায় তাঁদের ওপরই এসে পড়ে। গত দু’দিনে চট্টগ্রামের যতগুলো গুদামে তিনি গেছেন, সেগুলোতে চাল ভালো পেয়েছেন বলেও জানান।
কর্মকর্তাদের কাছ থেকে খাদ্য বিভাগের নানা সমস্যার কথা শোনার পর মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, কর্মকর্তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যেসব বিষয় থেকে বঞ্চিত ছিলেন, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে। তিনি বলেন, কর্মকর্তারা যে সমস্যাগুলোর কথা তুলছেন, আগে যাঁরা সরকারে ছিলেন তাঁরা চাইলে সেগুলো সমাধান করতে পারতেন; কিন্তু তাঁরা দেশ ও জনগণের জন্য কোনো কাজ করেননি।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের মানুষের জন্য একটি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেছেন এবং কৃষকেরা যাতে ন্যায্য দাম পান, সেদিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। মানুষ যেন সময়মতো ঘরে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছাতে পারে, সেই প্রেক্ষাপট সামনে রেখেই তাঁরা কাজ করে চলেছেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, একবারে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জনগণের বিপক্ষে যাচ্ছে এমন সমস্যা, যাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা কর্মকর্তাদের কাজে অসুবিধা তৈরি হচ্ছে, সেগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী চান, তা দেখে সেই অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিতরণ করা খাদ্যের বস্তায় বিতরণ সিল যেন অবশ্যই থাকে, সে বিষয়ে তাগিদ দেন মন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেন, কোনো কিছু ঘটলে শুরুতেই খাদ্য অধিদপ্তরকে দোষারোপ করা হয়; অথচ অধিদপ্তরের কাজ বিতরণ পর্যন্তই, এরপর বাইরে কে কী করল, তার দায় খাদ্য অধিদপ্তরের নয়। তাই প্যাকেটে বিতরণ সিলটি আছে কি না, কর্মকর্তাদের তা খেয়াল রাখতে হবে এবং এ জায়গায় সবার সচেতন থাকা দরকার।