ঢাকার লেক বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা: দূষণ রোধে চাই সমন্বিত পদক্ষেপ
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজধানীর লেকগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আজ দুপুরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকে প্রাণ ফিরিয়ে আনা এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেন সমন্বিতভাবে কাজ করে, সে তাগিদও দেন। গণমাধ্যমের কাছে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সময় প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, পয়ঃবর্জ্য কোনো অবস্থাতেই লেকে ফেলা চলবে না। সেই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন নিয়মিত বর্জ্য পরিষ্কার করতে, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করতে এবং সংস্থাগুলোর কাজের গতি আরও বাড়াতে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, কাদামাটি (স্লাজ) অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও এ সময় মূল্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয় গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন লেকের দূষণের উৎস ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে।
জানা গেছে, দূষিত পানি ও বর্জ্য গুলশান লেকে ঢোকার মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৬টি প্রাইমারি ও ৬টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট। এ সমস্যার সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কয়েকটি প্রস্তাবনা বৈঠকে উপস্থাপন করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশ দেওয়া হয় লেকে বর্জ্য ঢোকা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে, ভবনভিত্তিক এসটিপি বসাতে এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ লাইন নিয়ে বিস্তারিত জরিপ করতে। এ ছাড়া গুলশান-বনানী অঞ্চলে শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ‘ক্যাচমেন্ট এরিয়া’ তৈরি করার কথাও বলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, লেকের ভাসমান বর্জ্য সরাতে যে যান্ত্রিক নৌকা ব্যবহার করা হয়, তার সংখ্যা ২টি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করতে হবে; পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরও গতি আনাই এর লক্ষ্য। তলদেশের স্লাজ ভাসমান এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে সরানো এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করার ওপরও জোর দেন তিনি। ‘ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের ভেতর এসটিপি স্থাপনের প্রসঙ্গটিও বৈঠকে পেয়েছে সর্বাধিক গুরুত্ব।
এ ছাড়া সুপারিশ করা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করে খুঁজে বের করবে বাসাবাড়ি কিংবা বাণিজ্যিক ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের সঙ্গে লেক বা বৃষ্টির পানির ড্রেনের অবৈধ সংযোগ আছে কি না, এবং সেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। বৈঠকে আরও প্রস্তাব দেওয়া হয় লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার জন্য এরেটর (অক্সিজেন বৃদ্ধিকারী যন্ত্র) বসানোর, দুর্গন্ধ দূর করতে রাসায়নিক ও জৈবিক পদ্ধতি সমন্বিতভাবে ব্যবহারের এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার।
বৈঠকে জানানো হয়, রাজউকের অধীনস্থ লেকগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেগুলোর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কাজে ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে ৫টি বিশেষ টিম, যেগুলো গঠিত হয়েছে ৪২ জন জনবল নিয়ে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় হাজির ছিলেন।