ছবিঃ সংগৃহীত
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এক তরুণ ও তিন কিশোর; অভিযোগ, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারা। খবরটি দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গণধর্ষণের শিকার কিশোরীটিকে পরে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়, আর মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়া হয় একটি খোলা মাঠে। মরদেহের কিছু অংশ সেখানে কুকুর খেয়ে ফেলে।
১৩ সেপ্টেম্বর কিশোরীর পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করা হয় একটি খোলা মাঠ থেকে; মাঠটি উত্তর-পশ্চিম দিল্লির স্বরূপ নগর এলাকায়—এনডিটিভি এ তথ্য দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন, মাঠে পড়ে থাকা দেহাংশ কুকুর খুবলে খাচ্ছে; এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন।
বিকৃত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহটি দেখে ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। শরীর থেকে একটি হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল, আর মরদেহের নানা অংশ কুকুর খেয়ে ফেলেছিল।
মরদেহটি পুরুষের না নারীর—আঘাত ও পচনের কারণে প্রথম দিকে সেটুকুও নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় পরে, ডাক্তারি পরীক্ষায়।
নিহত কিশোরীর সঙ্গে গ্রেপ্তার চারজনের আগে থেকেই পরিচয় ছিল বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর একটি টেম্পোতে করে তারা একসঙ্গে ঘুরছিল।
পুলিশ বলছে, গাড়ির ভেতরে সবাই একসঙ্গে মদ্যপান করে; এরপর আসামিরা কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। পরে স্বরূপ নগরের মাঠে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালায়।
কিশোরী নিখোঁজ—এমন কোনো অভিযোগ অবশ্য তার পরিবার করেনি।
মেয়েটি কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রায়ই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ত, ফিরত কয়েক দিন পর—পুলিশকে এ কথা জানিয়েছেন স্বজনেরা।
ঘটনাটি কেউ সরাসরি দেখেনি, শুরুতে আসামিদের পরিচয়ও জানা ছিল না। এ কারণে ওই এলাকা ও আশপাশের রুটে থাকা ৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ।
ঘটনার সম্ভাব্য সময়ের কাছাকাছি একটি টেম্পো ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়ে যাচ্ছে—ফুটেজ বিশ্লেষণে এমন দৃশ্য ধরা পড়ে। অন্ধকার থাকায় গাড়িটির নম্বর স্পষ্ট বোঝা যায়নি, তবে বাহনটি কোন পথে গেছে তা তদন্তকারীরা শনাক্ত করেন।
এরপর সিসিটিভি ট্র্যাকিং কাজে লাগিয়ে অভিযান চালানো হয় ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে। তাতে গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়, আটক করা হয় চালককে।
চালকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এ অপরাধে জড়িত চারজনকে। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক আসামি শিবম ওরফে সুদামা ওরফে চুচুর বয়স ১৯ বছর, তিনি খড্ডা কলোনির বাসিন্দা। অন্য তিনজনের বয়স ১৬ ও ১৭ বছর।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে জব্দ করেছে টেম্পোটি, হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি এবং ঘটনার সময় পরনে থাকা পোশাক।
মামলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা (পকসো) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায়।
পুরো ঘটনার আলামত ও ফরেনসিক প্রমাণ এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।