আন্তঃসীমান্ত উচ্চশিক্ষায় নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করছে ইউজিসি
ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ‘ক্রস-বর্ডার হায়ার এডুকেশন নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দেশের উচ্চশিক্ষাকে বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্পন্ন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালাতে পারে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় সে সুযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে দেশের যোগ্য ও মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও বিদেশে শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এসব তথ্য জানান রোববার, যখন ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবেচনায় থাকবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও মানসম্মত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস চালাতে দেওয়ার প্রসঙ্গটি। সে ক্ষেত্রে অবশ্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে শিক্ষার গুণগত মান, একাডেমিক পরিবেশ, সুশাসন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা। যেসব বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পাবে, তাদের মূল ক্যাম্পাসের সমমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করার উদ্যোগ উৎসাহিত করা হবে; এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হবে দেশের উচ্চশিক্ষায় নতুন ও ভবিষ্যৎমুখী জ্ঞান ও দক্ষতার চাহিদা। দক্ষ জনবল গড়ে তোলার কাজে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, বিশেষত প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি, রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, যোগ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিগগিরই পিএইচডি প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমতি পাবে; দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতা বিবেচনা করে এ অনুমতি দেওয়া হবে।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বিশ্বের মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্কলারশিপ, ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক একাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ আরও বাড়বে, দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণও আরও দ্রুত হবে।
বাংলাদেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে মালয়েশিয়ায় শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন করতে পারে, সে জন্য ইউসিএসআইয়ের সহযোগিতা চান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম বাড়াতে পারে, সে জন্য ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে চায়।’
বাংলাদেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও বাড়াতে আগ্রহী বলে জানান ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিচালনার অনুমোদন এবং পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, যৌথ ডিগ্রি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতেও তাঁরা আগ্রহী বলে জানান।
ইউসিএসআইয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক টিউশন ফি ধার্য করা এবং টিউশন ফি মওকুফের প্রস্তাব আসে। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও প্রতিনিধিদলটি ইউজিসির কাছে সহযোগিতা চায়।
বাংলাদেশি শিক্ষকদের জন্য ইউজিসির যে বিদেশি স্কলারশিপ কার্যক্রম রয়েছে, তাতে যুক্ত হতেও আগ্রহ দেখায় ইউসিএসআই। ওই কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষকদের টিউশন ফি মওকুফে সহযোগিতা করার কথাও জানানো হয়।
ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন হবে আগামী ডিসেম্বরে, মালয়েশিয়ায়। সভায় ওই সমাবর্তনে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাতে আসে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস দাতুক ড. সিতি হামিসা বিনতে তাপসিরের নেতৃত্বে। সাক্ষাতের সময় সেখানে ছিলেন ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আইসিসি বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, ইনসাইট ইনস্টিটিউট অব লার্নিংয়ের চেয়ারম্যান ও ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আরিফুল বারী মজুমদার এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কুশাইরি বিন মোহাম্মদ রাজউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির একটি শাখা ক্যাম্পাস আছে ঢাকার বনানীতে।