ছবিঃ সংগৃহীত
অস্কারজয়ী ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ন কোতিয়ার সান সেবাস্টিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন চলচ্চিত্রশিল্পের দ্রুত পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষাপট এবং সিনেমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে। মর্যাদাপূর্ণ দোনেস্তিয়া অ্যাওয়ার্ড জেতার পাঁচ বছর পর তিনি উৎসবে ফিরেছেন নিজের নতুন ছবি ‘৭এইচ৪০ সে জুর-লা’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ারে; সেখানে তার আলোচনায় উঠে আসে ওটিটি বা স্ট্রিমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের দাপট ও রুপালি পর্দায় এআই প্রযুক্তির প্রসঙ্গ। রসিকতা করে তিনি বলেন, এআইয়ের প্রসার ঘটলেও এখনকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল অভিনেতারা অত্যন্ত নিষ্প্রাণ, তাদের অভিনয় ‘আলুর মতো’।
এই অভিনেত্রী খানিকটা স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন; তার মন্তব্য, কোন অভিনেতা আসল আর কোনটি কৃত্রিম, সেই পার্থক্য ধরা এখনো বেশ সহজ।
মারিয়ন কোতিয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোনো এআই অভিনেতার অভিনয় দেখে যেদিন তার মধ্যে আবেগ-অনুভূতি জেগে উঠবে, সেদিন সত্যিই তিনি প্রচণ্ড ভয় পাবেন। আপাতত ওদের অভিনয় দেখলে মনে হয় যেন আলু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে—এটিই তাকে স্বস্তি দিচ্ছে। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, সত্যিই কি কোনো দিন তেমন কিছু ঘটবে, এআই অভিনেতার কাছে কোনো দিন কি তিনি এভাবে বোকা বনে যাবেন—এমন ভাবনায় তার মধ্যে কিছুটা শঙ্কাও কাজ করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশ্নে মারিয়নের এ স্পষ্ট অবস্থানের সঙ্গে মূলত মিল রয়েছে হলিউড তারকা টম ক্রুজের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও। ‘মিশন ইম্পসিবল’ খ্যাত এই তারকা সম্প্রতি বাফটার সঞ্চালক এডিথ বোম্যানের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছিলেন, মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণে একটি অনন্য ও অলঙ্ঘনীয় জায়গা রয়েছে। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্ডাস্ট্রির বড় অংশ হয়ে উঠলেও মানুষের সত্যিকারের অভিনয় এবং প্রকৃত শিল্পীদের কাজই সব সময় দর্শকের কাছে প্রাধান্য পাবে।
সান সেবাস্টিয়ান উৎসবে মারিয়ন যোগ দিয়েছেন পরিচালক নিকোল গার্সিয়ার সিনেমা ‘৭এইচ৪০ সে জুর-লা’-এর প্রিমিয়ারে। উৎসবের সেরা সম্মাননা ‘গোল্ডেন শেল’-এর জন্য লড়ছে ছবিটি; এ দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মোট ১৭টি চলচ্চিত্র। ছবির মূল উপজীব্য—শান্ত এক মফস্সল শহরে এসে এলিস নামের এক নারী স্থানীয় ক্যাফেতে কাজ শুরু করেন এবং অনায়াসে অন্যদের সাধারণ জীবনের সঙ্গে মিশে যান। তার এ আগমন অবশ্য আকস্মিক নয়; তিনি সেখানে এসেছেন কাছেরই গ্যারেজে কর্মরত তরুণ মেকানিক মিলোর টানে। এলিস মিলোর কাছে অচেনা একজন, অথচ মিলো এলিসের কাছে ফেলে আসা অতীতের বন্ধন। চাপা পড়ে থাকা পুরোনো উত্তেজনা ও টানাপোড়েন ফের মাথাচাড়া দিলে দুজনই এক কঠিন মোড়ে এসে দাঁড়ান—বহু বছর আগে যে সম্পর্ক ভেঙে গেছে, তা কি আবার জোড়া লাগানো সম্ভব?
থিওডোর পেলরিন, আর্তুস, লরে কালামি, অ্যালেক্সিস মানেন্তি, অ্যান ব্রোশে, এরিক এলমসনিনো এবং চার্লস বার্লিং এ চলচ্চিত্রে মারিয়ন কোতিয়ারের পাশাপাশি অন্যান্য মুখ্য ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।