এইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে ফেল করলে এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষার সুযোগ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
ছবিঃ সংগৃহীত
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে যাঁরা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাঁরা এক মাসের মধ্যেই আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
সচিবালয়ে শনিবার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এবারের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট (eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd) এবং নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফল দেখতে পারবে, মার্কশিটসহ ফল ডাউনলোডও করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর দিয়ে পুরো ফলাফলের শিট নামাতে পারবে। পরীক্ষার্থীরা চাইলে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও সরাসরি ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।
মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়েও দ্রুত ফল জানা যাবে বলে জানিয়েছে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। যেকোনো মোবাইল নম্বরের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে—
এইচএসসি <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> ২০২৬ এবং তা ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
[উদাহরণ: HSC Dha ১২৩৪৫৬ ২০২৬ লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।]
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফল দেওয়া হবে না।
ফলে সন্তুষ্ট না হলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ বা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু হবে ১ নভেম্বর, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। পুনর্নিরীক্ষণের বিস্তারিত নিয়ম ও ফি দেওয়ার প্রক্রিয়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই, শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া যায়নি। স্থগিত সেই পরীক্ষাগুলো পরে নেওয়া হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তাদের জন্য সারা দেশে পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা বোর্ডে—৩ লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে পরীক্ষা দেয় ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।
প্রেক্ষাপট
ঢাকা টাইমসের ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান তখন জানিয়েছিলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা করিয়ে না রেখে ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
প্রথম আলোর ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যে ফেল করা বিষয়ে পরীক্ষার প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা বলেছিলেন মাহদী আমিন; ঢাকা বোর্ডের এক সাবেক চেয়ারম্যানের ভাষ্য ছিল, পাবলিক পরীক্ষায় তখন পর্যন্ত এমন কোনো নিয়ম ছিল না।
সংখ্যার হিসাব
টিবিএসের ১৬ অক্টোবর ২০২৫-এর হিসাবে, ২০২৫ সালের ৫৮.৮৩ শতাংশ পাসের হার ছিল ২০০৪ সালের (৪৭.৭৪ শতাংশ) পর সর্বনিম্ন।
প্রথম আলোর (ইংরেজি) ১৬ অক্টোবর ২০২৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এইচএসসি ও সমমানে পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮ শতাংশ।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: ঢাকা টাইমস, ১২ অক্টোবর ২০২৬; প্রথম আলো, ১২ অক্টোবর ২০২৬; টিবিএস, ১৬ অক্টোবর ২০২৫; প্রথম আলো (ইংরেজি), ১৬ অক্টোবর ২০২৫