ছবিঃ সংগৃহীত
জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নিশিনের কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কে শনিবার এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটের ফাইনালে লড়বে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে, শুরু স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর সাড়ে ১টায়। এ বছর কোনো ফাইনালে দল দুটির দেখা হচ্ছে এই প্রথম।
ভারত নামবে হাংজু এশিয়ান গেমসে জেতা শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখার লক্ষ্যে। পাকিস্তানের সামনে আবার এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে প্রথমবার সোনা জেতার হাতছানি; ২০১০ সালের গুয়াংজু গেমসে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল তারা।
ক্রিকেটে ভারতের মেয়েরা আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের সোনা এরই মধ্যে ঘরে তুলেছে; ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৪৭ রানের জয়ে শিরোপা নিশ্চিত হয় তাদের। পুরুষ দলও এবার সোনা জিততে পারলে ক্রিকেটে ‘ডাবল’ পূর্ণ করবে ভারত।
ভারত ও পাকিস্তানের সবশেষ দেখা ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। ম্যাচটি ৬১ রানে জিতেছিল ভারত। ৪০ বলে ৭৭ রান করে সেই জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন ইশান কিশান।
ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তান শেষবার জয়ের দেখা পেয়েছিল ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, এশিয়া কাপে। পাঁচ উইকেটে জেতা ওই ম্যাচে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাট থেকে এসেছিল সর্বোচ্চ ৭১ রান।
চারটি শীর্ষ বাছাই দলের মধ্যে থাকায় এবারের আসরে ভারত ও পাকিস্তান দুই দলই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে বাছাইয়ের ভিত্তিতে সেমিফাইনালের টিকিট পায় ভারত। শেষ চারে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ৯.৫ ওভারে ৪৫ রানে অলআউট করে ১২৪ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় তারা।
বৃষ্টিতে পণ্ড হয় পাকিস্তানের কোয়ার্টার ফাইনালও। হংকংয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর একই নিয়মে তারাও পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। সেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি নেমে আসে ১৩ ওভারে, আর তাতে পাকিস্তান জেতে ছয় উইকেটে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ পর্যন্ত ১৭ বার দেখা হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের। এর মধ্যে ১৩টি ম্যাচে জয় ভারতের, তিনটিতে পাকিস্তানের; টাই হয়েছে একটি ম্যাচ।
বৃষ্টির কারণে শনিবারের ফাইনালও যদি পরিত্যক্ত হয়, তবে সোনা পাবে দুই দলই—যৌথভাবে। হাংজু ২০২৩-এ অবশ্য চিত্রটা অন্য রকম ছিল। ভারত ও আফগানিস্তানের সেই ফাইনাল বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে থাকায় সোনা দেওয়া হয়েছিল ভারতকে।
ফাইনালে ভারতীয় দলে আলাদা করে চোখ থাকবে বৈভব সূর্যবংশী ও ইশান কিশানের ওপর। সেমিফাইনালে ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশীর ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান, যাতে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। আর পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৬ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন ইশান কিশান।
পাকিস্তান শিবিরে দৃষ্টি থাকবে ব্যাটার আবদুল সামাদ ও বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মকিমের দিকে। সেমিফাইনালে তিন ওভার বল করে ২৬ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট শিকার করেন মকিম। সামাদ খেলেন ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রানের ইনিংস, পাঁচটি চারের সঙ্গে মারেন একটি ছক্কা।
ভারতীয় স্কোয়াডে রয়েছেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার, অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিশান, শিবম দুবে, সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মা, অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বিপ্রজ নিগম, রবি বিষ্ণোই, জাসপ্রিত বুমরাহ, যশ ঠাকুর, আর্শদীপ সিং ও বৈভব সূর্যবংশী।
সাহিবজাদা ফারহানের নেতৃত্বে খেলছে পাকিস্তান। স্কোয়াডে আরও রয়েছেন সহ-অধিনায়ক আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, আহমেদ দানিয়াল, আকিফ জাভেদ, আলী রাজা, আরাফাত মিনহাস, হায়দার আলী, হাসান নওয়াজ, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, সাদ মাসুদ, সাইম আইয়ুব, সুফিয়ান মকিম ও উইকেটকিপার উসমান খান।
এ নিয়ে চতুর্থবার এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট হচ্ছে। খেলাটির অভিষেক ২০১০ সালে, গুয়াংজুতে; সেবার সোনা জেতে বাংলাদেশ, রুপা আফগানিস্তান আর ব্রোঞ্জ পাকিস্তান। ইনচনে ২০১৪ সালের আসরে সোনা যায় শ্রীলঙ্কার ঘরে, রুপা পায় আফগানিস্তান, ব্রোঞ্জ বাংলাদেশ। জাকার্তায় ২০১৮ সালের আসরে ক্রিকেট ছিল না। সবশেষ হাংজুতে ২০২৩ সালের আসরে ভারত সোনা, আফগানিস্তান রুপা এবং বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ পায়।
পদক তালিকায় শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। ১২টি সোনা, ২৫টি রুপা ও ৩৪টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে দেশটি জিতেছে ৭১টি পদক। আর ৩৪তম স্থানে থাকা পাকিস্তানের ঝুলিতে মোট ছয়টি পদক, যার সবই ব্রোঞ্জ।
সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ও সনি লাইভ ভারতে ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে। এ ছাড়া খেলাটি সম্প্রচার বা সরাসরি স্ট্রিমিং করবে পাকিস্তানে পিটিভি স্পোর্টস ও টেন স্পোর্টস, মধ্যপ্রাচ্যে বিইন স্পোর্টস, মালয়েশিয়ায় অ্যাস্ট্রো, সিঙ্গাপুরে মিডিয়াকর্প এবং জাপানে টিবিএস।