কক্সবাজারে হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড ঘরবাড়ি, বজ্রপাতে প্রাণ গেল একজনের
ছবিঃ সংগৃহীত
বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন কক্সবাজারে। সেখানে হঠাৎ আঘাত হানা ঝোড়ো হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ভেঙে পড়েছে গাছপালাও।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে লাল-কমলা রং ধারণ করে আকাশ। সন্ধ্যার ঠিক পরেই আকস্মিক তাণ্ডব চালায় কালবৈশাখী ঝড়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আচমকা দমকা বাতাস বইতে শুরু করে, সঙ্গে নামে তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রপাত। বাতাসের গতিবেগ মুহূর্তেই বেড়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। তীব্র ঝড়ে বহু বসতঘর ও দোকানের টিনের চালা আর বেড়া উড়ে যায়। সড়কের ওপর গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
ওই সময় পেকুয়ায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন রাজাখালী ইউনিয়নের বকসিয়াঘোনা এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে আবুল হোসেন; তাকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে টেকনাফের সাবরাং এলাকায় মোহাম্মদ আলম (২৬) নামের এক যুবক ধানখেতে কাজ করছিলেন; সে সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে তাকে ভর্তি করা হয় জেলা সদর হাসপাতালে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মগনামা ইউনিয়নের কাটাপাড়ি ব্রিজসংলগ্ন বাইন্যাঘোনা এলাকায়। মারাত্মক ক্ষতি হয় সেখানকার অন্তত ১০টি দোকান ও বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির। কয়েকটি দোকানের টিনের চালা উড়ে প্রায় ১০০ মিটার দূরের প্রধান বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গিয়ে পড়ে; এতে বন্ধ হয়ে যায় ওই এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ।
অন্যদিকে কুতুবদিয়ায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন আবুল কাশেম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ। ঘটনাটি উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মেইজ্জার পাড়ার। নিহত আবুল কাশেমের বাবা ওই এলাকার প্রয়াত মোখলেছুর রহমান।
উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মেইজ্জার পাড়ার আবুল কাশেম মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় ডায়াবেটিস মার্কেটে কেনাকাটা সেরে বাড়ির পথে ছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে অচেতন হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।
বজ্রপাতে ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক। সুরতহাল প্রতিবেদনের পর মরদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে।