গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে স্বৈরাচার চাপাতে চায় সরকার: জাজিরার পথসভায় শফিকুর রহমান
ছবিঃ সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চাইছে।
১১ দলের খুলনা-যশোর অভিমুখী লংমার্চের অংশ হিসেবে শনিবার শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় একটি পথসভা হয়। সেখানেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, গাদ্দারি করছে। সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়। আমরা জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’
একই পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণ রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণকে লালকার্ড দেখিয়েছে; এবার জনগণই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে লালকার্ড দেখাবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র মেরামত করার জন্য জনগণ গণভোট হ্যাঁ-তে ভোট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হ্যাঁ-তে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়ে তাদের চেহারা পাল্টে গেছে।’
প্রেক্ষাপট
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হয়; নির্বাচন কমিশনার আখতার আহমেদের হিসাবে তাতে ভোট পড়েছিল ৬০.২৬ শতাংশ।
প্রথম আলোর ৬ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, মুক্তাঙ্গনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে শফিকুর রহমান ১১ দলের লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছিলেন; সেখানে খুলনা অভিমুখী লংমার্চের তারিখ ছিল ১০ অক্টোবর এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের তারিখ ১৪ নভেম্বর। সূত্রভেদে কর্মসূচির তারিখে পার্থক্য রয়েছে।
সংখ্যার হিসাব
ঢাকা ট্রিবিউনের ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণভোটের ফলাফলের গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি।
এক নজরে
প্রথম আলোর ৬ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি-গ্যাস-বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের বিচার।
সূত্র
মূল প্রতিবেদন: আজকের পত্রিকা
প্রেক্ষাপট সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ঢাকা ট্রিবিউন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; প্রথম আলো, ৬ আগস্ট ২০২৬