ছবিঃ সংগৃহীত
৫৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটের ভিত্তিতে ৪.৭ রেটিং নিয়ে ইংল্যান্ডের ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে গুগল রেটিংয়ে শীর্ষে রয়েছে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ড। একই রেটিং আছে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম এবং নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ডেরও; কিন্তু ভোটের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় তালিকার প্রথম স্থানটি পেয়েছে অ্যানফিল্ড।
তালিকাটি তৈরি হয়েছে ফুটবল লিগের সব দলের হোম গ্রাউন্ডের গুগল রেটিং একত্র করে। সেখানে রেটিং সর্বনিম্ন ৪.০ থেকে সর্বোচ্চ ৪.৭ পর্যন্ত। যেসব ক্ষেত্রে রেটিং সমান, সেখানে এগিয়ে রাখা হয়েছে বেশি ভোট পাওয়া স্টেডিয়ামকে।
২৬ হাজার ৫৪৫টি ভোট পাওয়া টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামের অবস্থান অ্যানফিল্ডের ঠিক পরে, রেটিং ৪.৭। একই ৪.৭ রেটিং নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ডেরও, মাঠটি পেয়েছে ২ হাজার ২৪৫ ভোট।
পরের সারির মাঠগুলোর রেটিং ৪.৬। এই দলে পড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড, আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়াম, ম্যানচেস্টার সিটির সিটি অব ম্যানচেস্টার স্টেডিয়াম, চেলসির স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেন্ট জেমস পার্ক ও লিডস ইউনাইটেডের এল্যান্ড রোড।
উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মলিনিউক্স ৭ হাজার ৪০৮ ভোটে ৪.৬ রেটিং নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের মাঠগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। লিগ ওয়ানের শীর্ষ স্থানটি লেস্টার সিটির কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামের (৪.৬), অন্যদিকে লিগ টুতে সবার ওপরে আছে এক্সেটার সিটির সেন্ট জেমস পার্ক (৪.৫)।
হাল সিটির এমকেএম স্টেডিয়াম ৩ হাজার ৬৭৬ ভোটে ৪.৩ রেটিং পেয়েছে, যা প্রিমিয়ার লিগে সর্বনিম্ন। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের লফটাস রোড চ্যাম্পিয়নশিপে পেয়েছে ৪.১ রেটিং। ৪.০ রেটিং পাওয়া মাঠ গোটা ফুটবল লিগে মাত্র দুটি—অক্সফোর্ড ইউনাইটেডের কাসাম স্টেডিয়াম এবং স্টিভেনেজের স্পোর্টা অ্যারেনা।
ফুটবলের আরও কয়েকটি মজার পরিসংখ্যানও জায়গা পেয়েছে প্রতিবেদনে। সিরি আয় এ মৌসুমে পাঁচ রাউন্ড শেষ হয়ে গেছে, অথচ ০-০ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচ এখনো একটিও নেই। গত ৩০ বছরের হিসাব ধরলে এটি ২০১৫-১৬ মৌসুমের সমান; সেবার প্রথম গোলশূন্য ড্র হয়েছিল পঞ্চম রাউন্ডে।
অবশ্য গোলশূন্য ড্র দেখতে এর চেয়েও দীর্ঘ অপেক্ষার উদাহরণ রয়েছে ইংলিশ ফুটবলে। ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরে ১৮৮৯-৯০ মৌসুমের প্রথম ০-০ ড্রটি এসেছিল ১৭তম রাউন্ডে। দ্বিতীয় স্তরে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথম গোলশূন্য ম্যাচের দেখা মেলে ২৫তম ম্যাচে। স্কটল্যান্ডের তৃতীয় স্তরেও ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম ০-০ ড্র হয় ২৫তম রাউন্ডে গিয়ে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সমর্থকদের রেপ্লিকা জার্সি গায়ে তোলার ইতিহাসও। সমর্থকদের জন্য প্রথম দিকের আনুষ্ঠানিক রেপ্লিকা কিট বলে গণ্য করা হয় লিডস ইউনাইটেডের ১৯৭৩ সালের জার্সিকে। তবে পাঠকেরা যে তথ্য পাঠিয়েছেন, তাতে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের আগের আরও কিছু উদাহরণ মিলেছে।
লিগ জেতার সময় কোন ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের মাঠ সবচেয়ে ছোট ছিল, সে তথ্যও রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ যুগে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের এউড পার্কে ১৯৯৫ সালে ৩১ হাজারের কিছু বেশি দর্শক ধরত। আর্সেনালের হাইবারির ধারণক্ষমতা ২০০৪ সালে ছিল ৩৮ হাজার ৪১৯। অন্যদিকে লেস্টার সিটি যখন ২০১৬ সালে লিগ জেতে, তখন তাদের কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার ২৫৯।
তারও আগে, ১৯৬১-৬২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ইপসউইচ টাউনের মাঠ পোর্টম্যান রোডের ধারণক্ষমতা সে সময় ছিল প্রায় ২৯ হাজার। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে লিগ শিরোপা জেতা দলগুলোর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে ছোট মাঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।