ছবিঃ সংগৃহীত
সোমবার চতুর্থ দিনের খেলায় ব্যাট হাতে লিড বাড়িয়ে চারশোর ঘর পার করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টে এ খবর লেখার সময় ৮৯ ওভার খেলে ৩০০ রান তুলতে ছয় উইকেট খুইয়েছে শান্তর দল, ফলে আফগানিস্তানের চেয়ে তারা এগিয়ে ৪০৬ রানে।
৫৭ রানে লিটন দাস আর ৩৫ রানে মিরাজ ক্রিজে আছেন। ছয় উইকেট খুইয়ে ৩২৯ রানের লিড হাতে নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল টাইগাররা। তার আগে গতকাল তৃতীয় দিনে হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে আড়াইশো ছোঁয়ার আগেই আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায়। সব উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪০ রান, আর প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ১০৬ রানের বড় লিড।
দুজনে মিলে আফগানদের ৯টি উইকেট নেন হাসান ও এবাদত। পাঁচ উইকেট আর হ্যাটট্রিক মিলিয়ে ক্যারিয়ারের মনে রাখার মতো দিনে ইতিহাসে নাম লেখান হাসান। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৩৪৬ রান।
তৃতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। আগের দিন ২১১ রানে চার উইকেট হারানো আফগানিস্তান খেলতে নামার পর শুরুতেই আঘাত করেন এবাদত হোসেন চৌধুরী।
এবাদতের বলে সাজঘরে ফেরেন ইকরাম আলিখিল, যিনি ১০৩ বল খেলে করেছিলেন ৩২ রান। ঠিক পরের ওভারেই জাদু দেখান হাসান মাহমুদ। ওভারটি ছিল ৮৩তম, যার ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বলে টানা তিন শিকার ধরেন তিনি—একে একে বিদায় নেন ইসমাত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমান। ইসমাত এক রান করে ফিরলেও শেষ দুজন আউট হন গোল্ডেন ডাকে। তিন বলে তিন উইকেট—এভাবেই চমৎকার এক হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় হাসানের।
হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান; ইয়ামিন আহমেদ জাইকে ফিরিয়ে তুলে নেন দুর্দান্ত ফাইফার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুততম পেসার হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছে যান তিনি। অন্য প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি করেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ; ২১৬ বল খেলে ১০৩ রানে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকেন তিনি। মোহাম্মদ সেলিমকে আউট করে আফগানদের ইনিংসে শেষ আঘাতটি হানেন এবাদত হোসেন, আর ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
বল হাতে হাসানের শিকার পাঁচটি, এবাদতের চারটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজের একটি।
সেদিন টেস্টে হ্যাটট্রিক পাওয়া বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হন হাসান, পেসারদের মধ্যে তিনিই প্রথম। তার আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে এই কীর্তির মালিক ছিলেন অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী, যাঁরা দুজনই স্পিনার।