ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতায় জোর দিতে বললেন ববি হাজ্জাজ
ছবিঃ সংগৃহীত
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হলে ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান—দুটোরই সমন্বিত বিকাশ দরকার বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, ভাষাকে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম ভাবলে ভুল হবে; দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও এটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য, তা অর্জন করতে হলে দক্ষতা উন্নয়নকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ভাষা মানুষকে নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতা দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে তার অবস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রকেও প্রসারিত করে। একজন মানুষ কতটা স্পষ্ট করে কথা বলতে পারেন এবং নিজের চিন্তা অন্যের সামনে কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন—শিক্ষা, কর্মজীবন ও পেশাগত অগ্রগতিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে কারণে ভাষাশিক্ষাকে কেবল পরীক্ষায় ভালো ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; একে বাস্তব জীবনে যোগাযোগ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
চীনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজস্ব ভাষায় বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক পরিভাষাকে সমৃদ্ধ করা এবং সে ভাষাতেই জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করা কোনো দেশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশকেও মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণ করতে হবে, একই সঙ্গে বাড়াতে হবে আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা। তাতে জ্ঞান বিনিময়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। সে জন্য কারিগরি জ্ঞান ও যোগাযোগদক্ষতার পাশাপাশি ইংরেজি ও চীনা ভাষাসহ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো দরকার। ভাষাশিক্ষায় তরুণদের সাফল্যকে বৃহত্তর দক্ষতা উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিও অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।