দাবিতে অনড় চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, দশ দিন ধরে শাটডাউন
ছবিঃ সংগৃহীত
গত দশ দিন ধরে কমপ্লিট শাটডাউন চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা; তাঁদের দাবি, সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। শিক্ষার্থীদের এ দাবিতে সমর্থন দিয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, যা টানা পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে।
ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা, আর শিক্ষকরা পালন করেন অবস্থান কর্মসূচি। দাবি আদায়ে অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ; নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাবও হচ্ছে না।
নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে চুয়েটে যোগদান করেন। তবে চলমান আন্দোলন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে ক্যাম্পাসে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি; চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেই তিনি অবস্থান করছেন গত আট দিন ধরে।
জানা গেছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কঠোর অবস্থান কর্মসূচি ও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করেন। আর শিক্ষকরা বেলা ১১টা থেকে অবস্থান নেন উপাচার্য ভবনের সামনে।
নতুন কর্মসূচি হিসেবে আন্দোলনের দশম দিনে উপাচার্য ভবনের সামনে প্রতিবাদী কনসার্ট ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। প্রদর্শনীটি চলে বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত; সেখানে তুলে ধরা হয় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের চিত্র এবং আন্দোলনের গত নয় দিনের নানা ঘটনা। সন্ধ্যা ৬টা থেকে একই জায়গায় চলে প্রতিবাদী কনসার্ট।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, ড. সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করার দাবিতে তাঁদের প্রতিবাদী কর্মসূচি দশম দিনের মতো চলছে। গত দশ দিনে তাঁদের যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, তা আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে; প্রশাসনের নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি জানান, আন্দোলন চলবে সাবেক উপাচার্য পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান গত ২৭ জুলাই। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়; চুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে। এরপর থেকেই উপাচার্য বদলের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং মিছিল শেষ করে তালা ঝুলিয়ে দেন উপাচার্য ভবনে। সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু হয় পরদিন সকাল থেকে। শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনও। অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কার্যত এরপর থেকেই তৈরি হয় অচলাবস্থা। চুয়েটে বর্তমানে ১৮ বিভাগে শিক্ষার্থী আছেন ৬ হাজার ৩৬৭ জন, আর শিক্ষক ৩৬১ জন।