‘পাঁচ লাখ টাকায় একটি জীবনের মূল্য হয় না’, বললেন এমপি মনিরুল
ছবিঃ সংগৃহীত
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী দাবি জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারান, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের দিক থেকেও করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনের দাম কেবল পাঁচ লাখ টাকা হতে পারে না। সড়কে দুর্ঘটনায় রোজ অগণিত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু তার বিপরীতে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় তা নিতান্তই সামান্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বৃহস্পতিবার, কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে। কুমিল্লা বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডের উদ্যোগে সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের হাতে ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কারও প্রাণ গেলে বা অঙ্গহানি হলে সেই ক্ষতি টাকা দিয়ে কোনোভাবেই পুষিয়ে দেওয়া যায় না। দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থেকে সরকার কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে চেষ্টা করছে; তবে নিহতদের পরিবার যাতে পরিবহন মালিকদের কাছ থেকেও ক্ষতিপূরণ পায়, সে ব্যবস্থাও করা উচিত।
বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ চলছে, যার লক্ষ্য সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামানো—এমনটাই জানান তিনি।
বিআরটিএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে কুমিল্লা জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন, আহত হয়েছেন ছয়জন। ২৭টি পরিবার আবেদন করলে তার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের হাতে মোট ১ কোটি ২১ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি হয়। এতে হাজির ছিলেন কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম, আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা লিটন কুমার দে, মোটরযান পরিদর্শক মো. তাজুল ইসলামসহ বিআরটিএর অন্যান্য কর্মকর্তা।
নিরাপদ চালক চাই সংগঠনের সভাপতি আজাদ সরকার লিটন, পরিবহন মালিক প্রতিনিধি আবদুস সালাম, শ্রমিক প্রতিনিধি খন্দকার কামরুল হাসান টিপু এবং সাংবাদিক মাহফুজ নান্টুও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সবশেষে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার চেক হস্তান্তর করেন।