ছবিঃ সংগৃহীত
জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের চোখে, ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসই বাংলাদেশের এই উন্নতির মূল কারণ। তিনি মনে করেন, দেশের মাটিতে কিংবা বিদেশে—যে কন্ডিশনেই খেলা হোক, বিশ্বের যেকোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশ এখন রাখে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনাও এখন বেশ উজ্জ্বল বলে তার ধারণা।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে এখন বাংলাদেশের অবস্থান চার নম্বরে। চলতি চক্রে শুধু সাবেক তিন চ্যাম্পিয়নই তাদের ওপরে রয়েছে। অবশ্য পেছনে থাকা ভারতের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
মুশতাকের ভাষ্য, ‘ইনশাআল্লাহ সম্ভব, কেন নয়? আমরা ভালো অবস্থানে আছি। ভালো খেলতে হবে, বিশ্বাস নিয়ে খেলতে হবে।’
অবশ্য পথটা সহজ নয়। দুটি টেস্ট খেলতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়, এবং শঙ্কাটা প্রধানত ওই দুই ম্যাচ নিয়েই। তবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারানোর পর শান্তর দলের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। নিজের স্পিন বিভাগকে উদাহরণ হিসেবে টেনে মুশতাক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করতে কন্ডিশন বুঝতে হয়। এশিয়ায় বল ঘোরে, অস্ট্রেলিয়ায় সেভাবে ঘুরবে না। তাই কন্ডিশন বুঝে বল করতে হবে। এসব মাথায় রেখে অনুশীলনে যত ঘাম ঝরাবে, ম্যাচে খেলা তত সহজ হবে। পেসাররা ভালো করছে, ব্যাটাররাও ভালো করছে। সবাই ক্লিক করছে।’
ইংল্যান্ডে খণ্ডকালীন দায়িত্বে থাকাকালে সে দেশের সংবাদমাধ্যমকেও তিনি বলেছিলেন যে, বিদেশের মাটিতে টেস্ট জেতার সক্ষমতা বাংলাদেশের এখন আছে। মুশতাকের কথায়, ‘ইংল্যান্ডের মিডিয়াকে বলেছিলাম, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট উন্নতি করার মঞ্চ নয়, সেখানে পারফর্ম করতে যেতে হয়। ডেভেলপমেন্ট তো এখন হচ্ছে; এটা খেলোয়াড়ের সেরাটা বের করে আনার জায়গা।’
শুধু দক্ষতা নয়, মানসিক শক্তির ওপরও বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি। তিনি বলেন, ‘মানসিক শক্তি খুবই দরকার। খেলার ৫০ শতাংশই মাইন্ড গেম। আসলে খেলাটা মাথা দিয়েই খেলতে হয়। আমিও খেলেছি। মানসিকভাবে ভালো থাকলে আর বেসিক ঠিক থাকলেই আপনি ভালো খেলবেন।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই মাইন্ডসেটের ব্যাপার। বিশ্বাস রাখতে হবে, আর সেই বিশ্বাসের ফলই এখন বাংলাদেশ পাচ্ছে। আল্লাহর রহমতে আমরা এখন যেকোনো দলকে হারাতে পারি। স্কিল আছে, খেলোয়াড় আছে, বিশ্বাসও আছে। এই বিশ্বাস থাকলে অস্ট্রেলিয়াকে অস্ট্রেলিয়ায়, ইংল্যান্ডকে ইংল্যান্ডে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় হারানো যায়।’
উদাহরণ দিতে গিয়ে কোচ স্মরণ করিয়ে দেন নিজের দেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের সাফল্যের কথা, ‘পাকিস্তানে সবুজ উইকেটে আমরা টেস্ট জিতেছি। এরপর ওরা এখানে এলে টার্নিং নয়, গ্রিন পিচেই ওদের হারিয়েছি। স্পিনাররা গ্রিন পিচেও বল ঘোরাচ্ছে। হারার ভয় না থাকলেই জেতা যায়। কোচ হিসেবে এই মাইন্ডসেট বদলানোই আমাদের কাজ। এর কৃতিত্ব নির্বাচক, কোচ, খেলোয়াড়সহ সব স্টেকহোল্ডারের। তারা বিশ্বাস করে, আমরা এখন যেকোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি।’