বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, শেষ হবে ৩০ নভেম্বর
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রায় সাড়ে ৪ কোটি পরিবারকে একটি একক ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় আনতে আজ থেকে দেশজুড়ে একযোগে খানা বা পরিবারভিত্তিক তথ্য নেওয়া শুরু হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়েছে, এ কার্যক্রম তারই অংশ।
আজ দুপুরে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং সমাজসেবা অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে আজ ১২ অক্টোবর থেকে প্রতিটি বাড়িতে সরাসরি গিয়ে তথ্য নেওয়া শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এ কাজ করছেন ৬৬ হাজার ৮১৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী; সঙ্গে নিয়োজিত সুপারভাইজার আছেন ৬ হাজার ৬৮১ জন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ হবে, আর ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ।
ডা. জাহিদ হোসেনের কথায়, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সাধারণ মানুষকে কোনো সরকারি অফিসে কিংবা কারও কাছে ধরনা দিতে হবে না; সরকারের তথ্য সংগ্রহকারীরা নিজেরাই প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবেন। যোগ্য পরিবার বাছাই হবে ডেটাবেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে। তাই এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, স্বজনপ্রীতি কিংবা অসদুপায় অবলম্বনের কোনো সুযোগ থাকছে না।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে সাড়ে ৪ কোটি পরিবার (প্রতি ৫ জন সদস্যে একটি পরিবার ধরে) থেকে পিএমটি স্কোর অনুযায়ী ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হবে।
মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভাতার আওতায় আসছেন নতুন ৪১ লাখ নারী পরিবারপ্রধান। আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে যোগ্য সব পরিবার এ সুবিধা পাবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে এ অর্থবছরের বরাদ্দ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে ভাতা বাবদ।
কার্ডের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নারী কার্ডধারীদের হাতে যে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, সেটি হবে অত্যন্ত সুরক্ষিত। এতে থাকবে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি প্রযুক্তি, আর কার্ডটি যুক্ত থাকবে সরকারের ‘টাকা পে’ পেমেন্ট স্কিমের সঙ্গে। ফলে উপকারভোগীরা নিজেদের সুবিধামতো জায়গা থেকে বিপণি বিতানে থাকা পিওএস মেশিন, যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ অথবা বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রাখা এবং কোনো যোগ্য পরিবার যাতে বাদ না যায় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে থাকা ‘সেবা কেন্দ্র’ থেকে অফলাইন ও অনলাইন—দুইভাবেই অভিযোগ ও আপিল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য সঠিক কি না, তা যাচাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস পদ্ধতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বা ক্রস-চেক হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কর্মসূচিটি পরিবার ও সমাজে কী প্রভাব ফেলছে, তা মূল্যায়নের জন্য দেশি-বিদেশি নানা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সম্পৃক্ত রেখে নিয়মিতভাবে গবেষণা ও রিভিউ চালানো হবে।