বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর তাগিদ ড. তিতুমীরের
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের ডাক দিয়েছেন, যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়নের নিশ্চয়তা তৈরি হয়।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’ শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে যোগ দিয়ে শুক্রবার (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময়) তিনি এই আহ্বান রাখেন।
ড. তিতুমীরের ভাষায়, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়তে হবে, যা কেবল উন্নয়নে অর্থই জোগাবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার উপযোগী পরিবেশও তৈরি করবে।’
তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকারের কথা বলেন, যেগুলোর লক্ষ্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করে তোলা।
অগ্রাধিকারগুলো হচ্ছে—এমন আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা সংকট দেখা দেওয়ার পরে সাড়া না দিয়ে আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত ও প্রশমন করতে পারে; ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সিদ্ধান্তে জোরালো করা; ন্যায্য, স্বল্পব্যয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া; আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণকালে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা চালু রাখা।
বাংলাদেশের ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগকে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোগটির কেন্দ্রে রয়েছে স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও অগ্রাধিকার; এর আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতা—এসব বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ এগোচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গোও এ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস।