ছবিঃ সংগৃহীত
সতীর্থদের সঙ্গে শেষবারের অনুশীলনে নেমে লিওনেল মেসি যেন ফিরে তাকালেন নিজের দীর্ঘ পথচলার দিকেই। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তাঁর মাঠে নামা বাকি আর মাত্র এক ম্যাচ, সেটিই হবে শেষবার। চেনা সব মুখ, অগণিত স্মৃতি আর সাফল্যমাখা দিনগুলোই বিদায়বেলায় এখন রূপ নিয়েছে আবেগে।
সে কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির কথায় ধরা পড়ল বিষাদের ছোঁয়া—‘জানি, বিশেষ মুহূর্তগুলো মিস করব।’
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায়; এই ম্যাচ খেলেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি টানবেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকা সতীর্থদের নিয়ে শেষবারের অনুশীলনটাও সেরে ফেলেছেন। ইজেইজা অনুশীলন কেন্দ্রে এ সময় তাঁর মুখে হাসিই দেখা গেছে। ওই ট্রেনিং কমপ্লেক্সের নামকরণ এখন তাঁর নামেই।
শেষ অনুশীলন-পর্ব মিটে গেলে মেসি বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেন, যেগুলোতে তাঁর সঙ্গে আছেন সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তারা। এর একটিতে ধরা পড়েছে গোটা আর্জেন্টিনা দল ও কোচিং স্টাফ, সঙ্গে আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্থার সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াসহ কর্মকর্তারা। মাঠের বাইরেও দলটির বন্ধন যে কতটা গভীর, সেই চিত্রই উঠে এসেছে ছবিগুলোতে।
জাতীয় দলের শিবিরে মেসি যোগ দিয়েছেন রবিবার। তার আগে বলিভিয়া ও বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনা যখন খেলেছে, সেই ম্যাচগুলোতে তিনি ছিলেন না। তবে ফেরার পরই তাঁকে পাওয়া গেছে যেন চেনা ছন্দে। কোচ লিওনেল স্কালোনির তত্ত্বাবধানে চলা অনুশীলনে সতীর্থদের নিয়ে হাসি-তামাশায় মেতে ওঠেন তিনি, বেশ খানিকটা সময় দেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো দে পলকেও।
তবে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির এই যাত্রা মোটেও এত মসৃণ ছিল না। কোপা আমেরিকা তিনি জেতেন ২০২১ সালে; তার আগে বছরের পর বছর সঙ্গী ছিল হতাশা, ফাইনালের হার আর সমালোচনা। বহুদিনের অপেক্ষার স্বপ্নটি পূর্ণতা পায় পরের বছর, কাতার বিশ্বকাপ জয়ে। পরে আরেকটি কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম অধ্যায়গুলোর একটিতে জায়গা করে নেন তিনি।
সেই অধ্যায়েরই শেষ পাতাটি লেখা হবে এবার। আর্জেন্টাইনরা তাই বেনিন ম্যাচকে কেবল আরও একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না। মেসিকে বিদায় জানানোর জন্য মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভরে ওঠার অপেক্ষায়। এ আয়োজনে যোগ দেবেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশ কজন সদস্যও। সঙ্গে থাকছে বিশেষ আয়োজন, উপস্থিত থাকবেন অতিথি ও শিল্পীরা।
বিদায়ের এই মঞ্চ ভাগ করে নেবেন নিকোলাস ওতামেন্দিও। জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে রাখা এই ডিফেন্ডারও আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলতে তৈরি। মেসির কাছের সতীর্থ রদ্রিগো দে পল ও জিওভানি লো সেলসোও আছেন দলে।
আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা এজেকিয়েল লাভেজ্জি ও ক্রিস্তিয়ান গনসালেস হাজির হওয়ায় মেসির বিদায় ঘিরে আবেগ আরও গাঢ় হয়েছে। দলের অনুশীলনে তাঁরা এসেছিলেন বিশেষ অতিথি হয়ে, মেসির শেষ প্রস্তুতিটাও দেখেছেন খুব কাছ থেকে।
মেসি শেষ পর্যন্ত বিশ্বজয় করেছেন সেই জার্সি গায়েই, যেটি পরে একসময় স্বপ্ন ভেঙেছে বারবার। সে জন্যই বেনিনের বিপক্ষে লড়াইটা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের চোখে সাধারণ আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয়; এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে একটি যুগ।