ছবিঃ সংগৃহীত
টানা ৪৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকে নতুন এক নজির স্থাপন করেছে ইউরো ও বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একের পর এক ম্যাচ পেরিয়ে গেলেও পরাজয়ের স্বাদ কেমন, দলটি যেন তা মনেই করতে পারছে না।
মঙ্গলবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে নিজেদের দারুণ ছন্দ অটুট রাখল স্পেন। ক্রোয়েশিয়ার মাঠে শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়েছিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা; তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে আসা মিকেল মেরিনো জোড়া গোল করে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন।
এই জয়ের পর চার ম্যাচ থেকে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট তুলে নেশন্স লিগের ‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের শীর্ষস্থানে আছে স্পেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের পয়েন্ট ৯; একই সময়ে তারা চেকিয়াকে হারিয়েছে ৩-০ গোলে। ৩ পয়েন্ট পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া, অন্যদিকে চার ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই হার দেখেছে চেকিয়া।
নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত সূচনা করে ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের কাছে আগের ম্যাচে সাত গোল খাওয়া দলটি এদিন প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয়, যার সুফল মেলে ১৭তম মিনিটে।
স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন ইগর মাতানোভিচের শটটি কোনো রকমে ফিরিয়ে দিলেও শেষরক্ষা হয়নি; ফিরতি বলে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন অভিজ্ঞ ইভান পেরিসিচ। ১৬২ ম্যাচ খেলে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর গোল দাঁড়াল ৪০টিতে।
গোল হজমের পর বলের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের পায়ে থাকলেও প্রথমার্ধে তাদের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিরতির আগের ৪৫ মিনিটে দলটির নেওয়া পাঁচ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মোটে একটি।
বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচে সমতা আনার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন, কিন্তু দানি ওলমোর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সফরকারীদের বহুল প্রত্যাশিত গোলটি অবশেষে আসে ৬১তম মিনিটে।
ওলমোর বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে নিখুঁত প্লেসিং শটে জাল কাঁপান মেরিনো। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চেকিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতেও গোল পেয়েছিলেন তিনি।
দরকারি সময়ে বদলি হিসেবে মাঠে এসে খেলার চিত্র পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা যে মেরিনোর রয়েছে, তাঁর এই নৈপুণ্যে তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
নিজেদের ভুলেই ৭৭তম মিনিটে আবার বিপদ ডেকে এনেছিল স্পেন। একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে পেরিসিচের সামনে একা গোল করার সুযোগ আসে, তবে তাঁর জোরালো শটটি পা বাড়িয়ে রুখে দেন উনাই সিমন।
খানিক বাদেই স্বাগতিকদের জন্য আসে বড় দুঃসংবাদ। পেছন থেকে মার্ক কুকুরেইয়াকে ফাউল করায় পেরিসিচকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হয়, আর ভিএআর পর্যালোচনাতেও সে সিদ্ধান্ত বদলায়নি। এতে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জনের দল নিয়ে লড়তে হয় ক্রোয়েশিয়াকে।
এই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় স্পেন; ৮৮তম মিনিটে মেরিনোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। মার্তিন সুবিমেন্দির কাছ থেকে পাওয়া বল আয়ত্তে এনে প্রতিপক্ষের বাধা পেরিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
শেষ দিকে ক্রোয়েশিয়ার পক্ষে আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয় সঙ্গী করে মাঠ ছাড়ে স্পেন।