যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত প্রায় ৩৯০০, পেনসিলভানিয়ায় প্রাণ গেল পাঁচজনের
ছবিঃ সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় হামে ১ হাজার ৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। যুক্তরাষ্ট্রে রোগটির বিস্তারের মধ্যেই সোমবার দুর্যোগজনিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে নিউইয়র্কে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছে টিকাদান কম হওয়াকে।
১ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৭ জনের শরীরে—এ তথ্য দিয়েছে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র। দেশটিতে ১৯৯১ সালের পর হামের এত বড় প্রাদুর্ভাব আর দেখা যায়নি।
পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়া ল্যাঙ্কাস্টার কাউন্টিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৯১ জন। রাজ্যটিতে যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের একজনও হামের টিকা নেননি।
ভাইরাসের কারণে হওয়া হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। এটি সাধারণত শিশুদের হয়ে থাকে, তবে টিকা নেননি এমন যেকোনো বয়সী মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি থেকে রোগটি ছড়ায়। ভাইরাসটি বাতাসে থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।
ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের ভেতর লক্ষণ প্রকাশ পায়। আর শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চার দিন আগে থেকে শুরু করে পরের চার দিন পর্যন্ত রোগীর কাছ থেকে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারেন।
হামের লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় তীব্র জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ও পানি ঝরা এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ। লাল ফুসকুড়ি সচরাচর মাথা থেকে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
টিকাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। হাম, মাম্পস ও রুবেলার জন্য সমন্বিত এমএমআর টিকা সাধারণত দেওয়া হয় দুই ডোজে। যাঁদের পক্ষে টিকা নেওয়া সম্ভব নয়, ব্যাপক হারে টিকাদান হলে তাঁরাও সুরক্ষা পান। প্রাদুর্ভাব চলাকালে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এবং ভিড় এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।