ছবিঃ সংগৃহীত
দিল্লির বিজেপি সরকার স্থগিত করেছে দিল্লি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগতের পদোন্নতি, যাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। নিজের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নতুন দায়িত্ব নিতে চান না জানিয়ে তিনি অব্যাহতি চেয়েছিলেন; এরপরই এ সিদ্ধান্ত আসে। পরে সংশোধন করা হয়েছে পদোন্নতি নিয়ে আগে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিটি।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশের বাধা ও ধরপাকড় সত্ত্বেও শনিবার, রোববার ও সোমবারও তা চলেছে।
শনিবার ওই বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন তিন নারী সাংবাদিক। এসিপি বিবেক ভগত অভিযুক্তদের একজন। এরই মধ্যে সোমবার দিল্লি পুলিশ একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, বিবেক পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে যাচ্ছেন। আরও ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তারও তাঁর সঙ্গে পদোন্নতি পাওয়ার কথা ছিল।
পরে যে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি আসে, তাতে বিবেকের নাম বাদ পড়ে; বাকি ১১ কর্মকর্তার পদোন্নতি বহাল থাকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিবেক আবেদন করায় তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে তাঁর পদোন্নতির সিদ্ধান্ত। দিল্লি পুলিশ সূত্র দাবি করেছে, বিবেকসহ ১২ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার আগেই। দিল্লির স্বরাষ্ট্র দফতরের সহকারী সচিবের স্বাক্ষর আছে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এবং তা পাঠানো হয়েছে পুলিশ কমিশনারের কাছে।
সংশ্লিষ্ট ১২ কর্মকর্তার এই পদোন্নতি অস্থায়ী ব্যবস্থা ছিল বলে জানিয়েছে দিল্লি সরকারের একটি সূত্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পদগুলোতে স্থায়ী নিয়োগ দিলে দায়িত্ব বুঝে নেবেন নতুন কর্মকর্তারা। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই পদোন্নতিতে কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি পাওয়ারও কথা নয়।
অন্যদিকে বিবেক ভগতসহ যেসব পুলিশ কর্মকর্তা যৌন হেনস্থার অভিযোগে অভিযুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগটি ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছে, সঙ্গে উল্লেখ করেছে ‘স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের’ কথা। অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি জানিয়ে আসছে বিরোধী দল, বিভিন্ন সংগঠন ও সাংবাদিকদের একাংশ; তবু এখনো সে রকম কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরেও, যেখানে অবস্থান কর্মসূচি চলে রোববার রাত অবধি। পুলিশ সেখানে ধরপাকড়ে নামে সোমবার সকালে; থানার সামনে থাকা কয়েকজন বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিককে তারা আটক করে। এ সময় আটক হন অভিযোগকারী নারী সাংবাদিকও।
এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআর চেয়ে রোববার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বিক্ষোভে নামে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের নেতা সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, অভিযোগকারী সাংবাদিক ও তাঁর আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন, অথচ তাঁদের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ পুলিশ দেখায়নি। এরপর থানায় যান সৌরভ দাস ও সিপিএম নেতা বৃন্দা কারাট; পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা অভিযুক্ত এসিপির বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবি তোলেন। সিজেপির অভিযোগ, তার পরও মামলা করা হয়নি। পুলিশ অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি দলটির।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী মন্তব্য করেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উচিত ঘটনাটি নিয়ে বক্তব্য দেওয়া। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআরের দাবিও জানিয়েছেন তিনি; এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন। রাহুলের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন ঘটনায় মামলা করাটা পুলিশের ন্যূনতম দায়িত্ব।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।