১৮৮ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে প্রথম দিনে ৮১ কোটি দিল ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবিঃ সংগৃহীত
সমস্যা-কবলিত ন্যাশনাল ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে শুরু করেছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই টাকা তোলার চাহিদা ছিল ১৮৮ কোটি টাকা, এর বিপরীতে গ্রাহকেরা তুলেছেন ৮১ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা ও এটিএম বুথ থেকে এই টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন বলেন, গ্রাহকদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত আবেদনের বাইরেও শাখায় আসা অনেক গ্রাহককে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। যাঁরা টাকা তুলতে এসেছেন, তাঁরা টাকা পেয়েছেন; আগামী শনিবার নাগাদ ব্যাংকের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন তিনি।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনে ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রায় ১১ হাজার গ্রাহক আমানত তোলার আবেদন করেন, যেসব আবেদনের মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
আজ ব্যাংকটির মতিঝিল, দিলকুশা ও ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখায় গিয়ে গ্রাহকদের টাকা তুলতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সব শাখা ও এটিএম বুথে সেবা চালু হয়েছে এবং চেক, আরটিজিএস, এনপিএসবি ও ঋণপত্র (এলসি) খোলাসহ প্রচলিত ব্যাংকিং সেবাও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মতিঝিল শাখার ব্যবস্থাপক রোকসানা পারভিন জানান, তাঁর শাখায় আজ ৭৩ লাখ টাকা জমা পড়েছে, বিপরীতে গ্রাহকেরা তুলেছেন ৬ লাখ টাকা। দিলকুশা শাখার অপারেশনস ম্যানেজার চন্দন কুমার দাস বলেন, ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ৬৪ জন গ্রাহক প্রায় ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন; আজ বৃহস্পতিবার আবেদনকারীদের বাইরেও প্রায় ১০০ জন গ্রাহককে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা চেয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক, যার মধ্যে ঋণ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কাছ থেকে নিতে চেয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে সোনালী ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়, যার সুদহার ১০ শতাংশ ও মেয়াদ তিন মাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, এই অর্থ থেকে ব্যাংকটির সাবেক বা বর্তমান কোনো পরিচালকের আমানত ফেরত দেওয়া যাবে না, নতুন ঋণ বিতরণেও তা ব্যবহার করা যাবে না।
চেয়ারম্যান মেলিতা মেহজাবীনের ভাষ্য, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় অনেকে আতঙ্কে আমানত উত্তোলনের আবেদন করেছেন এবং এখন তাঁরা যাচাই করছেন, ব্যাংক টাকা ফেরত দিতে পারছে কি না; ইতিমধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের পর গত দুই বছর ধরে ব্যাংকটিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংক দেশের প্রথম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, রেমিট্যান্স ও এলসি লেনদেনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতীতের অনিয়ম বন্ধ করে সুশাসন, জবাবদিহি ও মানসম্মত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে হবে; সঠিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।