বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে কুমিল্লায় ৫ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি
ছবিঃ সংগৃহীত
৫ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়—এমন উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো এবং পরিবেশ রক্ষা করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে লালমাই উপজেলার দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আজ মঙ্গলবার বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা হয়; বিতরণ করা হয় তালবীজও।
ওই আয়োজনে তালবীজ দেওয়া হয় ৩০০ শিক্ষার্থীকে, যারা এসব বীজ নিজ নিজ এলাকায় রোপণ করবে।
এরপর সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পশ্চিম নোয়াগাঁও, দৌলতপুর ও পূর্ব নোয়াগাঁও আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করে। এতে অংশ নেন সংগঠনটির অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী।
এ আয়োজনে হাজির ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহা. তফাজ্জল হোসেন মজুমদার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খালেদ সাইফুল্লাহ, সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মারুফ, কুমিল্লা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রিফাত, অর্থ সম্পাদক আকিব হাসান, প্রচার সম্পাদক সালমান সাজিল এবং সদস্য রাকিব, ইয়াছিন, শামীম, অন্তু, ইফতি, সাইফুল, আশিক, লাবিব, রায়হান, রিফাত ও মেহেদীসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবীরা।
আয়োজকেরা জানান, প্রথম দিনের কর্মসূচিতে সংগ্রহ করা ১ হাজার তালবীজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কের ধারে চলতি মাসজুড়ে ধাপে ধাপে রোপণ করা হবে ৫ হাজার তালবীজ।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বাসসকে বলেন, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমানো ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সংগঠন ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’ তালবীজ রোপণ করে আসছে ২০১১ সাল থেকে। সারাদেশে গত ১৫ বছরে অন্তত ৭০ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবারও নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার তালবীজ রোপণের উদ্যোগ।
তিনি বলেন, বজ্রপাতে নিহতদের বড় অংশই প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ। এ কারণে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এসব মৃত্যু নিয়ে অনেক সময় যথেষ্ট উদ্বেগ চোখে পড়ে না। কেবল একসঙ্গে অনেক মানুষের মৃত্যু হলেই গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্ব পায়, নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোও।