ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে সারাদেশে ১,৬০০ চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
১ হাজার ৬০০ চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন একযোগে ৪০টি জেলায়। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ প্রশিক্ষণ চলছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে; উদ্দেশ্য সারাদেশে মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া।
ঢাকা মেডিকেল কলেজে আজ সকালে ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে চিকিৎসকদের দক্ষ করে তুলে মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনার ভুলে কোনো ডেঙ্গু রোগীর প্রাণ না যায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ও সরাসরি যোগ দেন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন এবং তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসক প্রতিনিধিরা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কেউ যেন চিকিৎসার অভাবে বা ভুল ব্যবস্থাপনায় প্রাণ না হারান, সে জন্যই এই বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ। ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা মৃত্যুহার কমিয়ে অনেক প্রাণ বাঁচাবে।’
চিকিৎসকদের নিরলস সেবা ও স্বাস্থ্য খাতের সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, চলতি ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী। তাঁদের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৮৩ জন; সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর রোগীর তীব্র চাপ সত্ত্বেও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তা সম্ভব হয়েছে।
এম এ মুহিত বলেন, এখন চিকিৎসাধীন আছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশকে সুস্থ করে তুলে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুধু আবেগ কিংবা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে না। অতীতের মতো অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন বা হঠাৎ ঘোষণার পথে না গিয়ে এখন সংকট সমন্বিতভাবে মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; এ জন্য রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের সামাজিক সুরক্ষা ও পেশাগত মর্যাদার ওপর জোর দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে মিডিয়া ট্রায়াল চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ ও সেবাদাতার মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকা উচিত নয়। স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত সংস্কারকে এগিয়ে নিতে হবে চিকিৎসকদের যথাযথ সম্মান দিয়েই।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সোসাইটি অব মেডিসিনের উদ্যোগে মূল প্রশিক্ষণের আগে ‘ট্রেইনার্স ট্রেনিং’ পান প্রায় সাড়ে তিনশ সিনিয়র চিকিৎসক। দেশের ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ চিকিৎসককে এখন একযোগে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তাঁরাই।