পাঠকের ভিড়ে মুখর বায়তুল মোকাররমের ইসলামি বইমেলা
ছবিঃ সংগৃহীত
বইপ্রেমীদের আনাগোনায় এরই মধ্যে জমে উঠেছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণের পূর্ব চত্বরে এ মেলা চলছে।
বিকেল হলেই প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে বাড়তে শুরু করে পাঠক ও দর্শনার্থীর ভিড়। মো. শরিফুল ইসলাম নামে মেলার একটি স্টলের বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘সকালের দিকে দর্শনার্থী কিছুটা কম থাকলেও আসরের নামাজের পর থেকে ক্রেতা বাড়ছে। পাঠকেরা পছন্দমতো বই কিনছেন, বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’
উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে মেলায় আসা পাঠকদের মধ্যেও। বাসসকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেন, ‘এবারের মেলায় বৈচিত্র্য অনেক বেশি। বিশেষ করে বিদেশি প্রকাশনীর বই আর সীরাত এক্সিবিশন আমাকে মুগ্ধ করেছে। এমন আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত।’
স্কুলশিক্ষিকা নওরীন সুলতানা মেলায় এসেছিলেন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য আলাদা শিশু চত্বর থাকায় খুব সুবিধা হয়েছে। ওদের উপযোগী সুন্দর ইসলামিক গল্পের বই কিনলাম। মেলার এই পরিবেশটা ভালো লাগছে।’
মেলা ঘুরে দেখা যায়, বইয়ে ছাড় মিলছে স্টলভেদে ১০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে পাঠকেরা অন্য সময়ের তুলনায় কম দামে বই কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব স্টলে আবার তাদের প্রকাশিত বই পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ কমিশনে। সেখানে মুদ্রিত মূল্য ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে ৩৫ শতাংশ এবং ১০ হাজার ১ টাকার বেশি হলে ৪০ শতাংশ ছাড় মিলছে। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ও পূর্ব গেটে ফাউন্ডেশনের এ স্টলটির অবস্থান।
মেলা পরিচালনা কমিটির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, এবারের আয়োজনে বরাদ্দ পাওয়া স্টল মোট ১৪৪টি। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ২০৬টি প্রতিষ্ঠান এসব স্টলে অংশ নিয়েছে। মেলায় মিলছে বাংলাদেশের পাশাপাশি মিসর, লেবানন, পাকিস্তান ও ভারতের সাতটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনাসহ শতাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বই। পবিত্র কোরআন, হাদিস, সীরাত, ইসলামি সাহিত্য, গবেষণা, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং শিশু-কিশোরদের উপযোগী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষামূলক বইসহ নানা ধরনের বই সাজানো রয়েছে স্টলগুলোতে।
লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে মেলায় রোজই হচ্ছে আলোচনা সভা ও নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে রাখা হয়েছে নারীদের আলাদা বসার ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য ‘শিশু চত্বর’। এর বাইরে রয়েছে তথ্যকেন্দ্র, ম্যাগাজিন ও লেখক কর্নার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্নার।
ওয়াফা হিফজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আয়োজনে ‘সীরাত এক্সিবিশন’ মেলার অন্যতম আকর্ষণ। নবী কারীম (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে উপস্থাপনের অনন্য প্রয়াস নেওয়া হয়েছে ১৩টি প্রজেক্টের এ প্রদর্শনীতে।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণে ‘শাপলা কর্নার’ এবারই প্রথম মেলায় স্থান পেয়েছে, যা এবারের মেলার বিশেষ সংযোজন।
এর আগে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন গত ১২ সেপ্টেম্বর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, ইসলামি জ্ঞান ও নৈতিক মূল্যবোধ সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ মেলার বিশেষ ভূমিকা থাকবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে পবিত্র কোরআন ও হাদিস প্রচারের প্রকৃত কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
মেলা চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।