এফবিআইয়ের হাজারো এজেন্টের গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি হ্যাকার গোষ্ঠীর
ছবিঃ সংগৃহীত
ডার্ক ওয়েবে এক বার্তায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘোষণা দিয়েছে আলোচিত ও বিতর্কিত সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ‘শাইনিহান্টার্স’। হ্যাকার দলটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রায় সব এজেন্ট ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি সংস্থাটির চাকরিপ্রার্থীদেরও গোপন ব্যক্তিগত তথ্য বিপুল পরিমাণে চুরি করেছে তারা।
এই হ্যাকার দলের ব্যাপারে গত মে মাসে বিশ্বজুড়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল খোদ এফবিআই। সেই এফবিআইকেই এবার লক্ষ্যবস্তু করে বিপুল তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি দলটির।
এফবিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারে অনধিকার প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে তারা—ডার্ক ওয়েবের লিক সাইটে এমন দাবিই করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের ভাষ্যে, এর ফলে টেরাবাইট পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য এখন তাদের দখলে; এর মধ্যে আছে সংস্থাটির প্রায় সব এজেন্ট ও চাকরিপ্রার্থীর নাম, বাসার ঠিকানা ও ব্যক্তিগত ফোন নম্বর। নিজেদের দাবির প্রমাণ দিতে তারা কিছু নমুনা প্রকাশ করেছে; পাশাপাশি এফবিআইয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের একটি হ্যাক হওয়া পৃষ্ঠার স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যের কিছু অংশের সত্যতা প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে; তবে সেগুলো আদৌ এফবিআইয়ের সার্ভার থেকেই চুরি হয়েছে কি না, স্বাধীনভাবে তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুরো তথ্য চুরির বিষয়টি ঘটনার পর এফবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারও করেনি, অস্বীকারও করেনি; তবে তারা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে। সংস্থার এক মুখপাত্র একটি প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে বিবৃতি পাঠিয়ে জানান, এফবিআইয়ের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইট ‘এফবিআইজবস ডট গভ’-এ অননুমোদিত প্রবেশ বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপের বিষয়টি তাঁদের জানা আছে এবং গুরুত্ব দিয়েই এর তদন্ত চলছে। সংস্থাটির মূল চাকরির ওয়েবসাইট এবং বিশেষ এজেন্ট পদে আবেদনের পোর্টাল ঘটনার পরপরই সাময়িক বন্ধ করে রাখা হয়।
মানবসম্পদ বিভাগে বহুল ব্যবহৃত ওরাকল পিপলসফট সার্ভারে অনুপ্রবেশ দিয়েই হামলাটি শুরু হয় বলে ভাষ্য শাইনিহান্টার্সের। এরপর কৌশলে নিরাপত্তাবলয় ডিঙিয়ে সেখান থেকে তারা প্রবেশ করে মার্কিন সরকারের জন্য নির্ধারিত অ্যামাজন ক্লাউড নেটওয়ার্কে; এফবিআই কর্মকর্তা ও আবেদনকারীদের যাবতীয় সংবেদনশীল তথ্য সেখানেই সংরক্ষিত ছিল। অবশ্য এই কারিগরি বিবরণ সত্য কি না, তা ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা এফবিআই—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিস্ময়ের ব্যাপার, এত বিপুল তথ্য হাতিয়ে নিয়েও হ্যাকারদের বক্তব্য হলো—কোনো আর্থিক লেনদেন কিংবা মুক্তিপণের উদ্দেশ্য এর পেছনে ছিল না। হামলাটি মূলত এফবিআইয়ের প্রকাশ করা একটি সাইবার নিরাপত্তা বুলেটিনের প্রতিবাদ। গত মে মাসে প্রকাশিত সেই বুলেটিনে এফবিআইয়ের দাবি ছিল, অর্থ আদায় করতে শাইনিহান্টার্সের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হুমকি, মানসিক হয়রানি এবং ভুয়া জরুরি পুলিশি অভিযানের মতো প্রতারণামূলক কাজে জড়িত। হ্যাকাররা দাবি করছে, তাদের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই বিজ্ঞপ্তি এফবিআই প্রত্যাহার না করলে সংগ্রহ করা তথ্যের কী হবে, তা নিয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।