‘ট্রাম্প ব্রাজিলকে উপনিবেশ বানাতে চান’, নির্বাচনে মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে লুলার তোপ
ছবিঃ সংগৃহীত
ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল করে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ বানানোর লক্ষ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নির্বাচনে নাক গলাচ্ছেন—এমন দাবি করা হয়েছে প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভার নির্বাচনী প্রচার দলের প্রকাশ করা নতুন এক টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞাপনটিতে বলা হয়েছে, লুলার চরম ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে জিতিয়ে আনতে ট্রাম্প সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞাপনটিতে এক নারীর কণ্ঠে বর্ণনা করা হয়, ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী হলেন ফ্লাভিও বলসোনারো; আর ট্রাম্পের চাওয়া—ব্রাজিলকে উপনিবেশ বানানো, দেশের সম্পদ কেড়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা। এর পাশাপাশি লুলা নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) অভিযোগ তুলেছেন যে, ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়াই বলসোনারোর ইচ্ছা। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বলসোনারো যা চান তা পূরণ হলে ব্রাজিল আবার ফিরে যাবে উপনিবেশের যুগে। অবশ্য শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরটির দাবি, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচনে ষড়যন্ত্র কিংবা হস্তক্ষেপের এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ হবে আগামী ৪ অক্টোবর। লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে—সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে এমন আভাসই মিলছে। কোনো প্রার্থীই প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে দ্বিতীয় ধাপের রান-অফ হবে ২৫ অক্টোবর। ভোটের দিন যতই কাছে আসছে, ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও তত বাড়ছে ব্রাজিলসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানোসহ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।