বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল, তবু যুক্তরাষ্ট্র-চীনের হাতে সময় কম: বিশ্লেষক
ছবিঃ সংগৃহীত
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আপাতত যে খানিকটা সময় হাতে পেয়েছে, বিশ্বের এই দুই বৃহৎ অর্থনীতির দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা মেটানোর সেই সময়ও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
খবরটি দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের জাঁকজমকপূর্ণ এক শীর্ষ বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়।
ট্রাম্প বৈঠকের পর জানান, এ বছরেই আরও দুবার বৈঠকে মিলিত হবেন দুই নেতা।
বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই নেতার আলোচনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, প্রতিরক্ষা, বিরল খনিজ ও শিল্পনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশ দুটির তীব্র মতভেদ এখনো কাটেনি।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ড্যানিয়েল রাসেল বলেন, সম্পর্কের নানা ক্ষেত্রে দেশ দুটির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ এখনো অব্যাহত।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও দ্য এশিয়া গ্রুপের পরামর্শক ড্যানিয়েল ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার ইচ্ছা যে দুই দেশের নেতারই আছে, তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।
তাঁর মতে অবশ্য, এ যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখতে চাইলে বাস্তব ও দৃশ্যমান আরও কিছু ফল দেখাতে হবে।
ক্রিটেনব্রিঙ্ক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মত হলো, চীন আগের বৈঠকগুলোতে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবে যথাযথভাবে পালন করেনি। ফলে চীনের কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে গভীর হতাশাও আছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছর ট্রাম্প ও সির মধ্যে বৈঠক হয়; এরপর একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ।
তার আগে একে অপরের পণ্যে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কের হার একপর্যায়ে ১০০ শতাংশও পেরিয়ে যায়।
চুক্তি অনুযায়ী চীন প্রতিশ্রুতি দেয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিনসহ আরও বেশি কৃষিপণ্য কিনবে। পাশাপাশি বিরল খনিজ উপাদান রপ্তানির বিধিনিষেধ এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেয় বেইজিং।
মূলত নভেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ ফুরানোর কথা ছিল। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশ চলতি সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে মেয়াদ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
শুক্রবার সিএনবিসিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধির এমন সময়কে ওয়াশিংটন মূলত ‘কমপ্লায়েন্স পিরিয়ড’ বা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় বলেই বিবেচনা করছে।
ক্রিটেনব্রিঙ্ক বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে, চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য যেটুকু দরকার, চীন মোটামুটি সেটুকুই করছে—তার বেশি কিছু নয়।
তাঁর ভাষায়, এ রকম পরিস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের মেরি লাভলি বলেন, চুক্তির মেয়াদ স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের।
তাঁর মতে, চীনের চাওয়া ছিল আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য চুক্তিটি নবায়ন করা। তবে বিরল খনিজ বা মৃত্তিকা উপাদানে তৈরি চুম্বকের সরবরাহ এখন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের একটি বড় কারণ। তাই পরিস্থিতিকে খুব বেশি সময় চীনের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় না ওয়াশিংটন।
লাভলি আরও বলেন, উচ্চ শুল্ক আরোপের যে হুমকি যুক্তরাষ্ট্র দেয়, চীনের ওপর এখন তার প্রভাব আগের মতো কতটা পড়ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।