ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ডাক রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের
ছবিঃ সংগৃহীত
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ডেঙ্গু ঠেকাতে ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার কাজে সবার প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা এডিস মশা বংশবিস্তারের সুযোগ পায় জমে থাকা পানি আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকেই।
তিনি বলেন, অসুখ হয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসা করানোর তুলনায় আগেভাগে তা প্রতিরোধ করাই বেশি গুরুত্ব বহন করে। সে কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজে মিলেমিশে কাজ করতে হবে সবাইকে।
জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের কাছে এই কথাগুলো বলেন শনিবার সকালে, রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী জুটমিলে এক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যোগ দিয়ে। দেশব্যাপী জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় নেওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই কার্যক্রমটি আয়োজিত হয়।
মশাবাহিত রোগ ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তাই ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি সরাতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।’
জেলার ৯টি উপজেলার ৭৮টি স্পটে প্রতি শনিবার একই সঙ্গে নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর হাতে সূচনা হওয়া তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ধারাবাহিকতাতেই এ উদ্যোগ। এসব কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বিতভাবে যুক্ত আছেন জেলার সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক বলেন, ‘স্বাস্থ্যনীতির মূল শক্তিই হলো—প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা চাই রোগ হওয়ার আগেই তা ঠেকানো হোক। এ জন্য ডেঙ্গুসহ সব মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’
কাটাখালী পৌরসভার সামনে এ অভিযানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক নিজেই হাসুয়া ও ফগার মেশিন হাতে তুলে নিয়ে পরিচ্ছন্নতার কাজে যোগ দেন। তিনি মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলিতভাবে চেষ্টা করলে একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব; আর তাতে আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত হবে।
জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা, চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার কাজ চলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে। কর্মসূচিতে যোগ দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সবুর আলী, সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিৎ সরকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আরিফ হোসেন এবং পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুম মুনীরা। কাটাখালী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে অংশ নেন।