ছবিঃ সংগৃহীত
বাইরে চলাফেরার সময় মেয়েদের যেসব সতর্কতা মেনে চলতে হয়, সেই অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তুলে ধরেছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। কন্যা দিবস উপলক্ষে তিনি কথা বলেছেন মেয়েদের প্রতিদিনের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে।
ভয় কিংবা শঙ্কা ছাড়া মেয়েরা যেখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন, তেমন একটি সমাজের প্রয়োজন বলে মনে করেন কৃতি।
মেয়েদের প্রতিদিনের জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি পোস্টে তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পথে একটি মেয়ে টের পাচ্ছেন যে কয়েকজন পুরুষ তাঁর পিছু নিয়েছে—এ রকম একটি দৃশ্যের কথা ভাবলেই স্পষ্ট হয়, নিরাপত্তা নিয়ে মেয়েদের কী পরিমাণ দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, রাতে একা বাড়ির পথে ফিরতে গিয়ে ঘন ঘন পেছন ফিরে দেখা অথবা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়া—এসবও অনেক মেয়ের কাছে পরিচিত অভিজ্ঞতা।
নিরাপদ থাকতে মেয়েরা কী কী ব্যবস্থা নেন, কৃতি তাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা, হাঁটার পরিবর্তে ক্যাব নেওয়া অথবা বাড়ি ফেরার সময় ফোনে কারও সঙ্গে কথা চালিয়ে যাওয়া—এ ধরনের সতর্কতা এখন অনেক মেয়ের প্রতিদিনের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে।
কৃতি মনে করেন, এগুলোকে নারীর জীবনের স্বাভাবিক অংশ বলে মেনে না নিয়ে বরং নিরাপদ পরিবেশ তৈরির ওপরই গুরুত্ব দেওয়া দরকার। বাইরে বেরোনোর পর একজন নারীকে প্রতি মুহূর্তে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা ভাবতে হবে—এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
রাতে একা বাড়ি ফেরা, সন্ধ্যার পর পার্কে বসা কিংবা নিজের পছন্দের পোশাক পরে বাইরে যাওয়া—যেদিন কোনো মেয়ে এসব করতে পারবেন, তেমন একটি দিনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এমন পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেছেন, যেখানে গণপরিবহন ব্যবহার করতে গিয়েও নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে না।
এমন এক সমাজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী, যেখানে জনসমাগমপূর্ণ স্থানেও বাড়তি সতর্ক থেকে নারীদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হবে না।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মেয়েদের একটি পরিচিত অভ্যাসও কৃতির পোস্টে উঠে এসেছে। একা কোথাও যাওয়ার পর অথবা রাতে বাইরে থাকার পর অনেক মেয়েই ফোনে পরিবারকে জানিয়ে দেন, ‘পৌঁছে গেছি’। সাধারণত গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছানোর খবর দিয়ে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করার জন্যই এ ধরনের ফোন বা বার্তা দেওয়া হয়ে থাকে।
কৃতি আশা করেন, একদিন এমন সময় আসবে, যখন বাইরে চলাফেরা নিয়ে কোনো ভয় বা অনিশ্চয়তা থাকবে না; আর সে কারণেই একা কোথাও গিয়ে কোনো মেয়েকে আর ফোন করে পরিবারকে নিজের নিরাপত্তার খবর জানাতে হবে না।