নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরলেন মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ক্লদিয়া মাসেরো
ছবিঃ সংগৃহীত
নির্বাসন শেষে রোববার দেশে ফিরেছেন বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ক্লদিয়া মাসেরো। তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছালে উচ্ছ্বসিত শত শত মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান।
মাসেরো কারাকাসে যাতায়াতের প্রধান বিমানবন্দরে নামলে উল্লাসের মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন সমর্থকেরা।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে; এরপর ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি সরকার। তখন থেকে মাচাদোকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এরপর ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারসহ দেশটির নানা সম্পদ ও সুবিধা পাওয়ার দাবি করেন ট্রাম্প, এবং তা অর্জনও করেন।
মাসেরো মাচাদোর গণমাধ্যমবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সমর্থকদের সঙ্গে জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার সময় এসেছে। দেশের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেওয়ার সময় এসেছে।’
আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে গত ডিসেম্বরে নরওয়ে যান মাচাদো এবং সেখানে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন। এরপর অল্প সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর এখন তিনি পানামা সিটিতে বসবাস করছেন।
মাচাদোর রাজনৈতিক দল ভেন্তে পার্টি দাবি করছে, ভেনেজুয়েলায় ফিরতে এ পর্যন্ত সাতবার চেষ্টা করেছেন তিনি।
ওয়াশিংটনের ভূমিকা রয়েছে মাচাদোকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার পেছনে—এমনটাই বলছেন ভেনেজুয়েলার কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
তাঁদের অভিমত, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে; দেশটির ওপর কার্যত ব্যাপক প্রভাবও বিস্তার করছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
৩৪ বছর বয়সী মাসেরো মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সাত সহযোগীর একজন।
ওই সাতজন ২০২৪ সালের মার্চে গ্রেফতার এড়াতে আশ্রয় নেন কারাকাসে আর্জেন্টিনার দূতাবাসে। সে বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন বেড়ে যাওয়ার সময় প্রায় এক বছর সেখানে ছিলেন তাঁরা।
ওই সাতজন ২০২৫ সালের মে মাসে দূতাবাস ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে। তবে কীভাবে সেই অভিযান চালানো হয়েছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।