রাজশাহী রেলস্টেশনে হামলাকারীরা দেশের শত্রু: ভূমিমন্ত্রী
ছবিঃ সংগৃহীত
যারা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ধ্বংস করেছে, তারা গোটা রাজশাহীবাসীর সম্মান ও মর্যাদার ওপর আঘাত করেছে—এ কথা বলেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। স্টেশনটিকে তিনি রাজশাহীবাসীর মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। স্টেশন পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া বাহিনীর চালানো তাণ্ডবেরও কঠোর নিন্দা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেলস্টেশনে যে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তার কায়দা হুবহু গত ৫ আগস্টের মতো; সেদিন রাজশাহী ও ঢাকায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করে শহীদ সাকিব আনজুমসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করা হয়েছিল।
রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও নাশকতার এ ঘটনায় এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।
এ ঘটনাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর কিংবা ভুয়া বক্তব্য ছড়ানো ব্যক্তিদের তিনি ‘রাজশাহী ও রাষ্ট্রের শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের খুঁজে বের করা হবে এবং দ্রুতই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বহিরাগত কোনো শত্রু অথবা ষড়যন্ত্রকারী চক্রান্ত করার চেষ্টা চালালে রাজশাহীবাসী অতীতে যেভাবে করেছে, সেভাবেই প্রতিরোধ গড়ে উপযুক্ত জবাব দেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সহনশীলতা ধরে রাখতে তিনি রাজশাহীবাসীর প্রতি অনুরোধও জানান।
এর আগে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রেলস্টেশনের ভাঙচুর হওয়া বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা এবং আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।