ছবিঃ সংগৃহীত
ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পাড়ি দিয়েছে ভারতের চেনাব নদীর ওপরের বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু এবং আঞ্জি সেতু, যেটি দেশটির প্রথম কেবল-স্টেড রেলসেতু। জম্মু-কাশ্মীরের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই সেতুতে এই গতিতে ট্রেন চালানোর পরীক্ষাটিকে নতুন এক মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এই পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে জম্মু বিভাগের কাটরা-বানিহাল রেলপথে ট্রেন চলাচলের অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার থেকে ১০০ কিলোমিটারে উন্নীত হলো।
উত্তর রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা-সম্পর্কিত নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হওয়ার পর ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা-বানিহাল রেলপথে গতিসীমা বৃদ্ধির অনুমোদন মেলে। আগে কাটরা-সাঙ্গলদান অংশে ট্রেন চলার অনুমতি ছিল ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার গতিতে, আর সাঙ্গলদান-বানিহাল অংশে তা ছিল ৭৫ কিলোমিটার।
ট্রেনটি সেতু পার হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। ঘটনাটিকে তাঁর পোস্টে ভারতের প্রকৌশল সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি এলাকায় চেনাব রেলসেতুর অবস্থান। ১ হাজার ৩১৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নদীর তলদেশ থেকে ৩৫৯ মিটার উঁচু; বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল আর্চ ব্রিজ হিসেবে এর পরিচিতি রয়েছে। আর ভারতের প্রথম কেবল-স্টেড রেলসেতু হলো আঞ্জি খাড সেতু।
উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল সংযোগ প্রকল্পের (ইউএসবিআরএল) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই কাটরা-বানিহাল রেলপথ। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ভেদ করে তৈরি পথটিতে আছে বড় বড় সেতু, গভীর উপত্যকা ও দীর্ঘ টানেল। কাশ্মীর উপত্যকা ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির লক্ষ্য।
গতিসীমা বৃদ্ধির ফলে এ পথে যাত্রার সময় কমে আসবে এবং ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যাত্রী, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের জন্য কাশ্মীর উপত্যকায় যাতায়াতও সহজ হয়ে উঠবে।