ছবিঃ সংগৃহীত
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন, যত চাপ বা দাবিই আসুক, ইরানকে ছেড়ে যাবে না তাঁর দেশ। তেহরানের সঙ্গে অংশীদারত্বকে মস্কো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত সম্পর্ক হিসেবেই দেখে বলে তাঁর ভাষ্য।
ইরানি একটি গণমাধ্যমকে শনিবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
মেদভেদেভ ইরানের জনগণের ঐক্য ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, স্বাধীনতা এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ইরানি জাতিকে তিনি পেয়েছেন অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রূপে। তিনি আরও জানান, ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতার জন্য তেহরানে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে মানুষ যেভাবে বিপুল সংখ্যায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে, তা তাঁর মনে গভীর দাগ কেটেছে।
মেদভেদেভ ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ও আয়াতুল্লাহ খামেনেইর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর তেহরান সফর হয়েছিল প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরাসরি নির্দেশেই।
মেদভেদেভের ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন প্রয়াত নেতার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বলেছিলেন।’
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার প্রসঙ্গ এলে মেদভেদেভ জানান, ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে ২০ শতাংশেরও বেশি; বাইরের চাপ থাকলেও সেই প্রবৃদ্ধি থেমে নেই।
পারমাণবিক খাতেও সহযোগিতা যে বাড়ছে, তা জানিয়ে তিনি বলেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মধ্যেই এই সহযোগিতা আটকে নেই। সেখানে আরেকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টর নির্মাণের বিষয়েও কথাবার্তা চলছে। পাশাপাশি বুশেহরের ২ ও ৩ নম্বর ইউনিট নির্মাণের কাজও চলমান, যাতে অংশ নিচ্ছে রুশ পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম।
মেদভেদেভ হরমুজ প্রণালির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানের কাছে এই প্রণালি এমন এক কৌশলগত সম্পদ, গুরুত্বের দিক থেকে যা পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার সমান।
শেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, যে যা-ই দাবি করুক, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে মস্কো কখনোই দেবে না। তথ্যসূত্র: প্রেসটিভি।