ফ্লাইদুবাই-কাণ্ডে ইরানকে দায়ী ভাবছেন ট্রাম্প, প্রমাণ দেখেননি ভ্যান্স
ছবিঃ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো প্রমাণ তিনি এখনো দেখেননি। অথচ দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, ওই ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা আছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী মনে করেন কি না—সোমবার এমন প্রশ্ন করা হয় ট্রাম্পকে। তিনি জবাব দেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে হ্যাঁ।’
অন্যদিকে তদন্তে ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর কো-পাইলট সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) তদন্তের বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ওই কো-পাইলট ওমানের নাগরিক এবং তাঁর পরিকল্পনা ছিল তেল আবিবের বেন-গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করা। দুবাইয়ের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পাওয়ার আগেই এই পরিকল্পনা করা হয় বলে দাবি ইসরায়েলের দুই কর্মকর্তার।
দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটটিতে কো-পাইলট জরুরি ক্র্যাশ কুড়াল নিয়ে মূল পাইলটের ওপর হামলা করেন বলে জানিয়েছেন ইউএইর প্রসিকিউটর জেনারেল। তিনি একে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ ও ফ্লাইদুবাই অবশ্য তাঁর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় যাত্রী ও ক্রুরা তাঁকে কাবু করে ফেলায়। হামলার শিকার মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছার ভারতীয় নাগরিক; তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন বিমানটিতে, তাঁদের বেশির ভাগই ইসরায়েলি। পরে ফ্লাইটে থাকা একজন রিজার্ভ পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেটিকে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে অবতরণ করান। কো-পাইলটকে সেখান থেকেই ইউএইর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোন এয়ারলাইন তেল আবিবগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে তা খুঁজে বের করার পরই ওই কো-পাইলট ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরির আবেদন করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য, তিনি চলতি বছরের আরও আগে তেল আবিবগামী অন্য একটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছিলেন; সেটিও ছিনতাই করে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন ওই কো-পাইলট। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, সে দেশেও তিনি কিছু সময় ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ।
কো-পাইলট ‘চরমপন্থী ইসলামি মতাদর্শে’ প্রভাবিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ দাবির সমর্থনে অবশ্য বিস্তারিত কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আরব উইকলি