হরমুজ প্রণালির ‘অবৈধ’ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি তেহরানের
ছবিঃ সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব আর নেই বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন; তবে তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, গোটা প্রণালিতে তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে। একই সঙ্গে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে তথাকথিত ‘অবৈধ’ নৌযানের চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুমকি দিয়েছে ইরান।
স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বে অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) যে মোট সরবরাহ, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায় বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি পরিবহন পথ দিয়ে। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ বাধার পর থেকে প্রণালিটিতে চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় বহুগুণ। সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলারে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ১০১ ডলারে।
ওমান উপকূল ঘেঁষে থাকা প্রণালির কয়েকটি পথ অচিরেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে এক বক্তব্যে জানিয়েছেন মোহাম্মদ রেজা নকদি। তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা।
নকদির ব্যাখ্যা, এসব কৃত্রিম পথ বানানো হয়েছে পাথুরে পথ ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অতি ক্ষুদ্র বোটে চোরাচালানের তেল বড় বড় ট্যাংকারে পৌঁছে দিতে পথগুলো কাজে লাগানো হচ্ছিল। একে সরাসরি ‘চোরাচালান’ বলে অভিহিত করে তাঁর যুক্তি, এত অল্প পরিমাণ পরিবহন দিয়ে কোনোভাবেই প্রমাণ হয় না যে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়ে আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ আছে এবং সেখানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর। তাঁর আরও বক্তব্য, তেহরানের ‘ন্যায্য ও বৈধ দাবিগুলো’ সম্পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ চলবে। প্রসঙ্গত, ইরান এর আগে প্রস্তাব দিয়েছিল—ওয়াশিংটন সামরিক চাপ কমালে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করলে তবেই প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মূল্যায়ন অবশ্য সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি দাবি করেন, কৌশলগত জলপথটি এখন পুরোপুরি ‘উন্মুক্ত’, আর হরমুজ প্রণালির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে ইরান।
রুবিও সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ওই পথ দিয়ে যতটা তেল প্রবাহিত হতো, বর্তমানে তার প্রায় সমান পরিমাণ তেলই বেরিয়ে আসছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ যাতে নিরাপদে চলতে পারে, সে জন্য তাঁদের সামরিক বাহিনী সরাসরি সহায়তা দিচ্ছে এবং এর ফলে দৈনিক তেল সরবরাহ ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অতিক্রম করেছে। বৈশ্বিক ডিজেল সংকটের দায় তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ওপর চাপাননি; বরং মূলত রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করেছেন। এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও কেপলারের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে। সাত দিনের গড় হিসাবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৈনিক ১৮.৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল চালানের তথ্য মিলেছে; হরমুজ প্রণালি বাদে বিকল্প পথে পাঠানো তেলও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: আরটি