৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও সিগারেট লুট: চট্টগ্রামের মামলার প্রধান আসামি সরাইলে ধরা
ছবিঃ সংগৃহীত
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ ও এসআরবি-৭-এর যৌথ দল ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে একটি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও বিপুল পরিমাণ সিগারেট লুটের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছিল। গ্রেফতারের খবরটি জানানো হয়েছে এসআরবি-৯-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি হৃদয় (২৭), মো. মাসুদের ছেলে। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার তুলাতুলি বস্তি এলাকায় তিনি বসবাস করেন।
এসআরবি-৯ জানিয়েছে, ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদারদের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাংলাদেশি সিগারেট গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে একটি পিকআপে তুলে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানাধীন কাজীর দেউড়ি এলাকার এসএ পরিবহন অফিস থেকে রিয়াজউদ্দিন বাজারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পিকআপটি পথে লাভলেইন মোড়ের অ্যাপোলো-১১ পেট্রলপাম্পের পাশে এলে দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল ব্যক্তি সেটির পথ আটকায়।
পিকআপচালক মো. আনোয়ার হোসেনের কাছে চাঁদা হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দাবি করে তারা; সেই টাকা দেওয়া না হলে চালক ও হেলপারকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়।
চালক চাঁদা দিতে রাজি না হলে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে তাঁকে আহত করা হয়। হেলপার মো. জাহিদ একপর্যায়ে বাধা দিতে এগিয়ে গেলে মারধরের শিকার হন তিনিও। চাঁদার টাকা না পেয়ে অভিযুক্তরা পরে পিকআপে থাকা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ সিগারেট অজ্ঞাত আরেকটি গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে আসা স্থানীয় লোকজন চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নেন। ঘটনাটি নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়, যার বাদী আমিনুল ইসলাম।
এসআরবি-৯ এ মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে ছায়া তদন্তে নামে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযানে যায় এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এসআরবি-৭-এর সিপিএসসি, চট্টগ্রামের একটি যৌথ দল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয় গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সরাইল সদর ইউনিয়নের তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সামনের পাকা সড়কে ওই অভিযান চলে। চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হওয়া মামলাটির এজাহারনামীয় এক নম্বর আসামি তিনি।
এতে আরও জানানো হয়, গ্রেফতার হৃদয়কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।