খানসামায় গ্রীষ্মকালীন আর্লি-৪৫ শিমে লাভের আশা কৃষক ময়েজ উদ্দিনের
ছবিঃ সংগৃহীত
হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। জেলার খানসামা উপজেলার এক পল্লিতে তিনি এ শিম চাষ করেছেন।
খরিপ-২/২০২৬-২৭ মৌসুমে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের এ শিম তিনি চাষ করেন দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায়। এতে তিনি লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
খানসামা উপজেলার সীট আলোকডিহি গ্রামে গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফুল ও ফলে ভরে উঠেছে মো. ময়েজ উদ্দিনের ২২ শতক জমির শিমখেত। তাঁর জমিতে চাষ করা রবিশস্যের মাচাজুড়ে কচি শিম ঝুলছে। কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন (৫৫) ব্যস্ত সময় পার করছেন পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে।
ময়েজ উদ্দিনের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তাঁর শিম চাষ দেখে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন একই এলাকার অন্য কৃষকেরাও। তাঁর সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন কৃষক মো. কাশেম আলীসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন কৃষক। ফলে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বিকল্প ও লাভজনক সবজি চাষে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহও তৈরি হয়েছে।
ময়েজ উদ্দিন জানান, গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে তাঁর আগ্রহ জন্মে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষের চিন্তা থেকে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহযোগিতা নিয়ে তিনি ২২ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ শুরু করেন। ভবিষ্যতে এই জাতের শিম আরও জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তিনি জানান, ২২ শতক জমিতে শিম চাষ করতে এ পর্যন্ত তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতা থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিনি প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন।
খানসামা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল বিন আমিনের ভাষ্য, ‘কৃষক ময়েজ উদ্দিনকে শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী হওয়ায় কৃষকের ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের শিমসহ সব ধরনের সবজি চাষে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁরা আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে কম খরচে বেশি উৎপাদন ও লাভ করতে পারেন।’
বাসসকে খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, ‘জলবায়ু ও মৌসুমভেদে ফসলের বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে অধিকতর লাভজনক ফসল উৎপাদন করা যায়। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকের আয় বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ কৃষকদের ফসল উৎপাদনে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত সম্পর্কে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন উন্নত জাতের আর্লি-৪৫ শিম চাষের মতো উদ্যোগ কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।’
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, এবার জেলার ১৩টি উপজেলায় উন্নত জাতের সবজি আর্লি-৪৫ শিম চাষের জন্য বীজ সরবরাহ করেছে কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগের উদ্ভাবিত আর্লি-৪৫ জাতের শিম গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে বেশি লাভবান হয়েছেন কৃষকেরা।
তিনি বলেন, জেলার সব উপজেলাতেই চলতি বছর রবি মৌসুমে কিছুসংখ্যক কৃষক আগাম আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করেছেন। খেতে খুবই সুস্বাদু এ জাতের শিমের চাহিদা রয়েছে বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর উৎপাদন ও ফলন খুবই ভালো হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এই জাতের শিম চাষ আগামী দিনে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।